পুরো গাজা দখলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইল

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর আপত্তি এবং হামাসের হাতে জিম্মিদের জীবনের ঝুঁকি সত্ত্বেও গাজা উপত্যকা পুরোপুরি দখলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বর্তমানে আইডিএফ গাজার প্রায় ৭৫ শতাংশ অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাকি এলাকাগুলোও দখলের মাধ্যমে গোটা গাজা ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। এদিকে গাজাজুড়ে সোমবার ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছে আরও ৯৪ জন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় একটু খাবারের আশায় এখন সব বয়সী মানুষের সাথে লড়াইয়ে নেমেছে কোমলমতি শিশুরাও। পরিবারের জন্য খাবার সংগ্রহ করতে না পেরে শেষ পর্যস্ত কান্নায় ভেঙে পড়ে এক শিশুটি। তার মা আর্তনাদ করে বলছিলেন, এটা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। যারা যুদ্ধের কারণে মারা যায়নি, তারা ক্ষুধার কারণে মারা যাচ্ছে। মানুষের জন্য খাবার নেই। সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।

gaza

গাজার বিভিন্ন ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে এ যেন প্রতিদিনের চিত্র। ইসরাইল প্রতিদিন ৮৬টি ত্রাণের ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। যদিও প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ত্রাণ প্রয়োজন ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য। সেই হিসাবে প্রতিদিন মাত্র চাহিদার ১৪ শতাংশ ত্রাণ পাচ্ছে গাজাবাসী। এরমধ্যে ত্রাণ নিতে গিয়ে হামলার ঘটনাতো আছেই। সোমবারও ত্রাণ নিতে গিয়ে নিহত হন ৩৬ ফিলিস্তিনি। এছাড়া গাজাজুড়ে ইসরাইলি হামলায় হতাহত হয়েছে আরো বহু ফিলিস্তিনি।

এদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর আপত্তি এবং হামাসের হাতে জিম্মিদের জীবনের ঝুঁকি সত্ত্বেও গাজা উপত্যকা পুরোপুরি দখলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। জানা গেছে চলতি সপ্তাহের মন্ত্রিসভায় গাজা উপত্যকা পুরোপুরি দখলের অনুমোদন চাইবেন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেছেন, আমাদের এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে, যেন আমরা আমাদের সব লক্ষ্য অর্জন করতে পারি। শক্রদের পরাজয়, জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজা আর ইসরায়েলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে না এটি নিশ্চিত করতে হবে। এই সপ্তাহের শেষের দিকে, আমি মন্ত্রিসভা ডেকে আইডিএফকে এই তিনটি লক্ষ্য কীভাবে অর্জন করা যায় সে সম্পর্কে নির্দেশনা দেবো।

gaza1

বর্তমানে আইডিএফ গাজার প্রায় ৭৫ শতাংশ অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাকি এলাকাও দখলের মাধ্যমে গোটা গাজা উপত্যকা ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

যদিও আইডিএফ জানিয়েছে, গাজা পুরোপুরি দখল করতে গেলে বহু বছর সময় লাগতে পারে, কারণ সেখানে হামাসের বিস্তৃত অবকাঠামো রয়েছে। পাশাপাশি, সেনা অভিযান জিম্মিদের সরাসরি মৃত্যু ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে সেনাবাহিনীর।