ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহত হয়েছেন আল জাজিরার পাঁচ সাংবাদিক। সাংবাদিক হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। এদিকে রবিবার গাজায় ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৫২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে অনাহারে মারা গেছেন আরও পাঁচজন। আর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে ইসরাইলের গাজা সিটি দখলের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা।
আল জাজিরার সংবাদকর্মী আনাস আল-শরিফ। গাজায় ইসরাইলি হামলার পর থেকেই উত্তর গাজা থেকে নিয়মিত প্রতিবেদন করে আসছিলেন তিনি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে থাকাই ছিলো তার প্রতিদিনের রুটিন। আর সেখান থেকেই বিশ্ববাসীর সামনে গাজায় ইসরাইলি হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরতেন তিনি। সাথে থাকতেন তার সহকর্মীরাও।
গাজায় ইসরাইলি হামলার পর আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে প্রবেশে বাধা দেয়া হলেও, আল জাজিরার সাংবাদিকরা অবরুদ্ধ গাজার ভেতরেই ছিলেন। ২২ মাস ধরে অব্যাহত বোমা হামলা এবং ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা দিয়েছেন তারা। কিন্তু রবিবার আল শিফা হাসপাতালের সামনে এই সাংবাদিকদের উপরই হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। নিহত হন আনাসসহ আল জাজিরার আরো চার সাংবাদিক।
কিন্তু হামলার পরই এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনা আনাসের বিরুদ্ধে হামাসের একটি শাখার নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ করে। আল জাজিরা কর্তৃপক্ষ এ হত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেছে আনাস আল শরীফ এবং তার সহকর্মীদের হত্যার নির্দেশ, দখল এবং গাজার দখলদারিত্ব প্রকাশকারী কণ্ঠস্বরকে নীরব করার একটি মরিয়া প্রচেষ্টা।
এদিকে আল জাজিরার সাংবাদিকদের হত্যার ঘটনার পর নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘও। ঘটনার পর সংগঠনটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক একটি বিবৃতি দেন।
এদিকে ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা অনুমোদনের পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা।
বৈঠকে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর জানান, ইসরাইল ফিলিস্তিনের জনগণকে ধ্বংস করে এর ভূমি দখল করে নেয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে। আর, ইসরাইলের জাতিসংঘ প্রতিনিধি জোনাথন মিলার বলেন, গাজা স্থায়ীভাবে দখলে রাখার কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই।
ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেন, ইসরাইল গাজা উপত্যকার উপর পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। তারা হামাসের শাসনের অবসান বা নিরস্ত্রীকরণের জন্য নয় বরং স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন রোধ করার জন্য এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে।
জাতিসংঘে ইসরাইলের প্রতিনিধি জোনাথন মিলার বলেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইসরাইলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা পাঁচটি স্পষ্ট নীতি গ্রহণ করেছে। গাজা স্থায়ীভাবে দখলে রাখার কোনও পরিকল্পনা ইসরাইলের নেই।
এদিকে গাজার ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য ত্রাণ পাঠিয়েছে ইতালি। ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের মানবিক মিশন, 'সলিডারিটি পাথ অপারেশন ২'-এর আওতায় প্রথম বিমান থেকে ত্রাণ দেয় গাজাবাসীকে।