গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন নিয়ে সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাসপার ফেল্ডক্যাম্প। শুক্রবার স্থানীয় সাংবাদিকদের তিনি জানান, ইসরাইলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সেই প্রস্তাবে সমর্থন পাননি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ফেল্ডক্যাম্প বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বাড়তি পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি তিনি তুলেছিলেন। কিন্তু মন্ত্রিসভায় তাতে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
ফেল্ডক্যাম্পের পদত্যাগের দিনই জাতিসংঘের সহায়তায় পরিচালিত বৈশ্বিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানায়, গাজা সিটি ও এর আশপাশে মানুষ দুর্ভিক্ষের মধ্যে রয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কয়েক লাখ মানুষ অনাহার ও অপুষ্টিতে মৃত্যুর ঝুঁকিতে আছে। ইসরাইল অবশ্য এই মূল্যায়নকে ভুয়া ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
তার উদ্যোগে এর আগে চরম-ডানপন্থি ইসরাইলি মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও ইতামার বেন-গভিরের ওপর নেদারল্যান্ডসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছিলো। তারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের উসকে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিলো।
তাছাড়া, ভেল্ডক্যাম্প নেদারল্যান্ডস থেকে ইসরাইলে জাহাজের যন্ত্রাংশ রপ্তানির তিনটি অনুমতিপত্রও বাতিল করেছিলেন। গাজা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে তিনি তখন বলেছিলেন, যন্ত্রাংশগুলোর অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহার হতে পারে। তিনি বলেন, গাজায় যা ঘটছে তা আমিও দেখতে পাচ্ছি। গাজা সিটিতে হামলা হতে দেখছি। পশ্চিম তীরে কী ঘটছে সেটাও দেখছি। পূর্ব জেরুজালেমে কী হচ্ছে, তা দেখছি।
ভেল্ডক্যাম্পের পদত্যাগে নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদটি শূন্য হল। এমন সময়ে তিনি পদত্যাগ করলেন, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।