আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় কমপক্ষে ৯০ আফগান নাগরিক এবং ১৩ মার্কিনীসহ মোট ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে বেসামরিক আফগান নারী ও শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকশ মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
হামলার দায় স্বীকার করে আইএস জানিয়েছে, নিজেদের একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সঙ্গে থাকা অনুবাদক এবং সহযোগীদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছে। এর আগে এই ঘটনার জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষও আইএসকে দায়ী করে।
এদিকে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বিস্ফোরণের জন্য বিদেশি সেনা উপস্থিতিকে দায়ি করে বলেছেন, এতে তালেবান যোদ্ধারা আহত হয়েছে। তবে এ হামলায় কতোজন তালেবান হতাহত হয়েছে সে বিষয়ে এখনো কিছু জানাননি জাবিউল্লাহ।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানায়, জোড়া বিস্ফোরণের প্রথমটি ঘটে কাবুল বিমানবন্দরের আ্যাবি গেটে। সেখানে মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনাদের ছাউনি অবস্থিত। মার্কিন এবং ব্রিটিশ সৈন্যরা এখানে অবস্থান নিয়ে হাজার হাজার মানুষকে আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল, তার ঠিক বাইরে প্রথম বিস্ফোরণটি হয়। আর দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি হয়েছে বিমানবন্দরের কাছে একটি হোটেলে।
বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১২ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ১৫ জন। বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা।
কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের উপযুক্ত জবাব দিতে মার্কিন সেনাবাহিনীকে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
তিনি বলেছেন, যারা এই হামলা চালিয়েছে, যারা আমেরিকার ক্ষতি করতে চায়, তারা এটা জেনে রাখুক যে আমরা ক্ষমা করব না। আমরা তাদের ধরব। এই হামলার জন্য দায়ীদের মূল্য দিতে হবে।
অন্যদিকে আফগানিস্তান বিষয়ক যেকোনো ‘হুমকি’ যৌথভাবে মোকাবেলা করার ব্যাপারে এক ফোনালাপে একমত হয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার (২৫ আগস্ট) ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তালেবানরা আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখল করে নেওয়ায় এমন হুমকি দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হামলার আগেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া তাদের নাগরিকদের হামলার বিষয়ে সতর্ক করে বার্তা দেয়। তারা নিজ দেশের নাগরিকদের বিমানবন্দর এলাকা পরিহার করতে এবং যারা ইতিমধ্যে বিমানবন্দর এলাকায় রয়েছেন তাদের সে স্থান ত্যাগ করারও নির্দেশ দেয়।
একাত্তর/আরবিএস