যুদ্ধবিরতি ও ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির ব্যাপারে হামাসের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরইমধ্যে দুই ইসরাইলি জিম্মির ভিডিও প্রকাশ করেছে হামাস। তবে এখনো গাজায় অভিযান জোরদারের পক্ষে নেতানিয়াহু প্রশাসন।
২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় গাজায় ১৪ ত্রাণ প্রত্যাশীসহ প্রাণ হারিয়েছে আরো ৭৫ ফিলিস্তিনি। এদিকে, গাজার বাসিন্দাদের জোর করে এলাকা ছাড়া করা নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিশর ও কাতার।
শুক্রবার রাত জুড়ে তাণ্ডব চালানোর পর শনিবার ভোর থেকেও গাজা উপত্যকায় চলছে ইসরাইলি বাহিনীর একের পর এক হামলা। শুক্রবার গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি ১২ তলা আবাসিক ভবনে বোমা হামলা চালায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী আইডিএফ।
‘মুশতা টাওয়ার’ নামের ওই ভবনটি উপত্যকার সবচেয়ে উঁচু হিসেবে পরিচিত, যেখানে শত শত বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে আইডিএফের দাবি, ভবনটির বেজমেন্টে হামাসের অবকাঠামো ছিল। ইসরাইলি নতুন অভিযানে এরইমধ্যে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে গাজা সিটি। এখানের ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দাবি করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
অভিযানের মধ্যেই গাজায় আটক দুই ইসরাইলি জিম্মির ভিডিও প্রকাশ করেছে হামাস। শুক্রবার প্রকাশিত প্রায় সাড়ে তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে তারা জানান, গাজা সিটিতে অন্য কয়েকজন জিম্মির সঙ্গে তারা আটক রয়েছেন এবং ইসরাইলের অভিযানে মারা যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এই যখন অবস্থা তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানালেন, যুদ্ধবিরতি ও ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির ব্যাপারে হামাসের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, হামাসের সঙ্গে আমাদের গভীর আলোচনা চলছে। আমি হামাসকে বলব, জিম্মিদের মুক্তি দিন। ভালো কিছু হবে। হামাস যদি জিম্মিদের গাজা থেকে মুক্তি না দেয়, তাহলে পরিস্থিতি খুব জটিল ও খারাপ হবে বলে আমার মনে হয়।
এদিকে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, গাজা পুনর্গঠন নিয়ে তাদের বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় তিনি দাবি করেন, জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি গাজা ছেড়ে যেতে চায়।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর এমন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিশন ও কাতার। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনিদের জোর করে নিজ এলাকা থেকে বের করে দেয়ার পরিকল্পনায় মিশর কোনোভাবেই অংশ নেবে না বা এর জন্য করিডর হিসেবে কাজ করবে না।
অন্যদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরাইলি নীতি ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের ভূমি ছাড়তে বা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।