১৭ বছরে ১৩ সরকার, নেপালে অস্থিরতার দীর্ঘ ইতিহাস

গত ১৭ বছরে ১৩টি সরকার দেখেছে হিমালয় কন্যা হিসেবে খ্যাত- নেপাল। অর্থাৎ, প্রায় দেড় বছরে একবার করে সরকার গঠিত হয়েছে ভারত ও চীন পরিবেষ্টিত দেশটিতে। তবে নেপালে বছরের পর বছর ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা সম্ভবত এবারই সবচেয়ে চরম আকার ধারণ করেছে। 

২০০৬ সালের তুলনায় এবারের জেন-জি নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন অনেক বেশি সহিংস। মাত্র দেড় দিনেরও কম সময়ের মধ্যে তরুণদের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্ম ওলি। শোনা যাচ্ছে, তিনি দুবাইতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। 

প্রায় ২০ বছর আগের সেই আন্দোলন ছিল নেপালের রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশটির সাধারণ মানুষের বিদ্রোহ। জনতার আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন রাজা জ্ঞানেন্দ্র। সেই সহিংস বিদ্রোহে কমপক্ষে ১৮ জন নিহতের পাশাপাশি বহু নেপালি আহত হবার খবর হয়েছিলো। 

দুই বছর পর, গণদাবির চাপে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করার পক্ষে ভোট দেয় নেপালের সংসদ। এরপর বছরের পর বছর নেপালের সরকার পরিচালনা করেছে রাজনীতিবিদরা। কিন্তু অনেক নেপালি, প্রজাতন্ত্রের প্রতি হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা বলেছেন, নেতারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে। 

এ কারণে দেশটিতে আবারও রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি উঠতে শুরু করে। গত মার্চেই রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে কাঠমান্ডুতে একটি সমাবেশ চলার সময় পুলিশের সংঘর্ষে জড়ায় রাজা জ্ঞানেন্দ্রর সমর্থকর। রক্তাক্ত সেই সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয় এবং আহত হন আরও অনেকে।

যদিও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি পদত্যাগ করেছেন, তবুও বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ বন্ধ করবেন কিনা তা স্পষ্ট নয়, কারণ তাদের অনেকেই সরকার ভেঙে দেয়ারও দাবি করছেন। এই ধরনের পদক্ষেপ আগামীতে নেপালে আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে, কারণ দেশটি ২০০৮ সাল থেকে ১৩টি সরকার দেখেছে। ঘনঘন সরকার পরিবর্তনে জনগণের আস্থা নষ্ট হয়েছে, বেড়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা।

সরকার বিক্ষোভ ঠেকাতে সোমবার রাবার বুলেট, জলকামান ও গুলি ব্যবহার করে। এতে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়। বেশ কিছু এলাকায় কারফিউ জারি হলেও আন্দোলন আরও তীব্র হয়। তরুণদের সঙ্গে সাধারণ মানুষও যোগ দেয়। এর জেরে প্রধানমন্ত্রী ও অন্তত তিন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন।

তবে পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বিক্ষোভকারীরা সরকারি অবকাঠামো, প্রেসিডেন্টের বাসভবন, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বাড়িতে হামলা ও আগুন দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনকারীদের দাবি এখন কেবল প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, পুরো সরকারের বিলুপ্তি। এটি নেপালে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়াতে পারে।