ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে বসেছে নেপালের পরিস্থিতি। জেন জি আন্দোলনে ওলি সরকারের পতন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে সুশীলা কার্কির শপথ গ্রহণের পর দেশটির জনজীবনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। তুলে নেয়া হয়েছে কারফিউ এবং চলাচলে নিষেধাজ্ঞা।
জেন জি বিক্ষোভ আন্দোলনের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার কথা উল্লেখ করে সিরাহার জেলা প্রশাসনের কার্যালয় জেলা দেশজুড়ে কারফিউ এবং নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ প্রত্যাহার করেছে।
নেপালে আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠলে প্রাথমিকভাবে নেপালি সেনারা শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছিলো। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর থেকে গণপরিবহন পুনরায় চালু হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের দীর্ঘ দূরত্বের বাসও রওয়ানা দিয়েছে।
কিছু যানবাহন শুক্রবার সন্ধ্যায় গঙ্গাবু বাস পার্ক থেকে রাজধানী ছেড়ে যায়। কাঠমান্ডু ভ্যালিতে যানবাহন এবং মানুষের উপস্থিতি এখন চোখে পড়ার মতো।
তবে, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিরাহা কারাগারের আশেপাশে বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারাগার প্রাঙ্গণের ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে রাত্রিকালীন কারফিউ অব্যাহত থাকবে।
সিরাহার প্রধান জেলা কর্মকর্তা বসন্ত অধিকারী দ্য পোস্টকে বলেন, জেলা জুড়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং আমরা সেই অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বাসিন্দারা যে ধরনের সহযোগিতার দিয়েছে, তাতে প্রশাসন কৃতজ্ঞ।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, জনজীবন স্থিতিশীল হলেও সংবেদনশীল এলাকায় সতর্কতা জারি থাকবে।
শুক্রবার রাতে শীতল নিবাসে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পাৌডেল কার্কিকে শপথ পাঠ করেন। সামাজিক মাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সড়কে নামে জেন-জি। সরকার পতনের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দাবি ওঠে।
নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী কার্কির অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হবে ছয় মাসের মধ্যে সংসদীয় নির্বাচন আয়োজন এবং নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করা। কর্মকর্তারা জানান দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে।