নেপালের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার সকালে, রাজধানী কাঠমান্ডুর ভক্তপুরে তাঁদের নিজ নিজ বাসভবন থেকে পুলিশ তাঁদের আটক করে কাঠমান্ডুর জেলা পুলিশ রেঞ্জে নিয়ে যায়।
দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার এক জরুরি সিদ্ধান্তের পর এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়। গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরে নেপালে হওয়া 'জেন জি' বা তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভ দমনে তৎকালীন সরকারের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল।

সেই কমিশন সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি শুরুর সুপারিশ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, অলিকে ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকায় অবস্থিত তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে আটক করে ভদ্রকালীস্থ পুলিশ কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কাঠমান্ডু উপত্যকা অপরাধ তদন্ত দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, রমেশ লেখককেও একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সুশীলা কার্কির নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া এই তদন্ত প্রতিবেদনে বিক্ষোভ দমনে অমানবিক ক্র্যাকডাউন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও পূর্ববর্তী সরকার প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হয়নি, তবে প্রতিবেদনের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য ইতিমধ্যে সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, বিক্ষোভ দমনে তৎকালীন নীতি-নির্ধারকদের ভূমিকা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতেই এই গ্রেপ্তার। এই ঘটনার ফলে নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তথ্যসূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
