পাইলট নওশাদের মৃত্যুর খবর 'গুজব'

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুয়ের মৃত্যুর খবর 'গুজব' বলে নিশ্চিত বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলটস এসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় লাইফ সাপোর্টে থাকা ক্যাপ্টেন নওশাদ ভারতের একটি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) আছেন আছেন বলে একাত্তরকে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে তার মৃত্যু গুজব ছড়ানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন তিনি।

রবিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪ টায় বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলটস এসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান বলেন, মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সেখানে তার দুই বোন অবস্থান করছেন। ভারতে সার্বিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে ভারতের পাইলট এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরাও সেখানে আছেন।

মাহবুবুর রহমান বলেন, তার মারা যাওয়ার খবর অনেকেই ছড়িয়েছেন, যা দুখজনক।  আমাদের অনুরোধ গুজব না ছড়িয়ে দোয়া করুন।

এর আগে, ক্যাপ্টেন নওশাদের অনেক নিকটজনের ফেসবুক স্ট্যাটাসের সূত্রে নানান গণমাধ্যমে খবর প্রচার হয় যে ১২২ যাত্রী নিয়ে ভারতের নাগপুরে জরুরী অবতরণ করা বিমানের পাইলট নওশাদ আতাউল কাইয়ুম সেখানকার কিংসওয়ে হাসপাতালে মারা গেছেন। পাইলটের স্ত্রী আমেরিকাতে অবস্থান করায় তাৎক্ষণিকভাবে এসব খবরের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

 এদিকে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বিএসএস শনিবার বিকেলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলট ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুমের শারীরিক অবস্থা একই রকম আছে। গেল দু’দিন ধরে তিনি ভারতের নাগপুরে কিংসওয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে কোমায় রয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার সকালে, ওমানের রাজধানী মাসকট থেকে বিজি-০২২ ফ্লাইটে ১২৪ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা আসার পথে ভারতের আকাশে থাকা অবস্থায় ক্যাপ্টেন নওশাদ কাইয়ুম অসুস্থ বোধ করলে ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করানো হয় ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুর শহরের বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

মাঝ আকাশে বুকের ভেতরে তীব্র কষ্ট নিয়েও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে পাইলট নওশাদ দ্রুত জরুরি অবতরণের জন্য বার্তা পাঠান কাছের কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে। তারা সবচেয়ে কাছের নাগপুর বিমানবন্দরে অবতরণের পরামর্শ দেন। এ সময়ে তিনি কো-পাইলটের কাছে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেন।

শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে নাগপুরের আম্বেদকর বিমানবন্দরে বিমানটি জরুরি অবতরণের পরপরই কর্তৃপক্ষ সেখানকার বিশেষায়িত কিংসওয়ে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। হাসপাতালটির ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডা. ইতেহশামুদ্দিনের তত্ত্বাবধানে পাইলট নওশাদকে বিমানবন্দর থেকে কিংসওয়ে হাসপাতালে নেয়া হয়।

হাসপাতালটির কার্ডিওলজিস্ট শৈলেন্দ্র গাঞ্জেওয়ারের অধীনে ভর্তি করা হয়ে ৪৫ বছরের এই পাইলটকে। ডা. শৈলেন্দ্র জানান, হাসপাতালে আনার সময় নওশাদের জ্ঞান ছিলো না। তিনি বলেন, ‘ককপিটে থাকা অবস্থায় ক্যাপ্টের নওশাদের ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়। তাঁকে যখন এখানে আনা হয় তখন তার রক্ত ও মাংসপেশীতে অক্সিজেন একেবারেই কমে গিয়েছিলো। সে কারণে তাকে তাৎক্ষণতিভাবে সিপিআর দেয় আমাদের চিকিৎসকরা’।

হাসপাতাল কর্মকর্তা রোশান ফুলবান্ধের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, 'তার (ক্যাপ্টেন নওশাদ) অবস্থা গুরুতর। তিনি সম্পূর্ণ ভেন্টিলেশনের সহায়তায় বেঁচে আছেন। তার মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তিনি কোমায় আছেন’।

হাসপাতালটির এই কর্মকর্তা আরো জানান, আকাশের মধ্যেই বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন পাইলট নওশাদ। বিমানবন্দর থেকে তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয় এবং সেই সময় পাইলট অচেতন ছিলেন, কোন ধরনের সাড়া দিচ্ছিলেন না।

তিনি আরো জানান, প্রায় আধা ঘন্টা সিপিআর দেয়ার পর নওশাদের দেহ কিছুটা সাড়া দেয়ায় জরুরি বিভাগ থেকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে তার হার্টের এনজিওগ্রাম করার পর ভেন্টিলেশনে দেয়া হয়। পরে তার মস্তিস্কের সিটি স্ক্যান করা হয়।

ক্যাপ্টেন নওশাদ কাইয়ুম হাসপাতালে মেডিক্যাল সার্ভিসের পরিচালক ডা. শুভ্রজিৎ দাশগুপ্তা, ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডা. রঞ্জন বারোকার ও ডা. বিরেন্দ্রর বেলেকারের অধীনে চিকিৎসাধীন আছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানানো হয়েছে, ক্যাপ্টেন নওশাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং এরিমধ্যে নওশাদের পরিবারের সঙ্গে হাসপাতালের যোগাযোগ হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে নাগপুরে যাচ্ছেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দিল্লী কার্যালয় জানিয়েছে, পাইলট নওশাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তারা হাসপাতালের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। 

একাত্তর/এসএ