তৃতীয় দিনে গড়ালো হামাস ইসরাইল শান্তি আলোচনা

মিশরের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরাইলের প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দিনের শান্তি আলোচনা শেষে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন- হামাস। একই সঙ্গে গাজায় আটক থাকা জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরাইল যেসব ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিতে চায়, তাদের একটি তালিকা জমা দিয়েছে।

এদিকে গাজায় আটক জিম্মিদের মুক্তির পর ইসরাইল পুনরায় হামলা শুরু করবে না বলে নিশ্চয়তায়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবারও আলোচনা চলমান থাকবে। এদিনের আলোচনায় অংশ নিতে দুই শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার মিসরের শারম আল-শেখে পৌঁছেছেন। কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধানও সেখানে রয়েছেন। 

মিশরের পর্যটন শহর শারম আল-শেখে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরাইলি প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দিনের আলোচনা হয়। এদিনের আলোচনায় গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহারের মানচিত্র ও ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, হামাস দাবি জানিয়েছে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির প্রতিটি ধাপ যেন ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহারের ধাপগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত থাকে। হামাস জোর দিয়ে বলেছে, শেষ ইসরাইলি বন্দির মুক্তির সময়ই হতে হবে দখলদার বাহিনীর চূড়ান্ত প্রত্যাহার। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা এবং গাজা থেকে সব ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার অপরিহার্য।

বুধবার ট্রাম্পের গাজা প্রস্তাবের আলোচনায় মিশরে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল থানিও অংশ নেবেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতি আলোচনার অগ্রগতির সাথে সাথে নমনীয় অবস্থানে রয়েছেন এবং নিজেদের মতামতগুলো প্রকাশ করছেন।

এদিকে, গাজায় আটক জিম্মিদের মুক্তির পর ইসরাইল পুনরায় হামলা শুরু করবে না, এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রাথমিক নিশ্চয়তা হলো- যদি এই চুক্তি সম্পন্ন হয়, আর বর্তমানে আলোচনাও চলছে, তাহলে আমরা সম্ভাব্য সবকিছু করব। আমাদের হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা আছে এবং আমরা তা প্রয়োগ করব যেন সবাই চুক্তি মেনে চলে।

অন্যদিকে এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনের গাজায় গত দুই বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধকে তাদের অস্তিত্ব রক্ষা ও ভবিষ্যতের জন্য যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেন। নেতানিয়াহু আরও বলেন, ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিয়েছে। সেই সঙ্গে এ অঞ্চলে ইরানের জোটবদ্ধ শক্তিগুলোকে রুখে দিয়েছে। আমরা যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জনে কাজ চালিয়ে যাব। এর মধ্যে রয়েছে: সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা, হামাসের শাসনের অবসান ঘটানো এবং গাজা যাতে আর ইসরায়েলের জন্য হুমকি না হয়, সেটা নিশ্চিত করা।

একদিকে যখন পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন ইসরাইলে প্রতিনিধিরা, অন্যদিকে উপত্যকাটিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। বিভিন্ন স্থানে নতুর করে হামলায় হতাহত হয়েছেন অনেক ফিলিস্তিনি।