দুই হাজার ফিলিস্তিনি জিম্মির বিনিময়ে ২০ ইসরাইলিকে মুক্তি দেবে হামাস

যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে আজ বহুল প্রত্যাশিত বন্দিবিনিময় হবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও দখলদার ইসরাইলের মধ্যে। 

শান্তি চুক্তির প্রথম পর্যায়ে ২০ ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দেবে হামাস। বিনিময়ে ইসরাইলের হাতে জিম্মি থাকা ২৫০ জন দীর্ঘমেয়াদী ফিলিস্তিনি বন্দী ও এক হাজার ৭০০ জন আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হবে। এছাড়া গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। তবে গাজার দীর্ঘমেয়াদী শাসন ব্যবস্থা ও নেতৃত্ব নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত রোডম্যাপের অধীনে, ফিলিস্তিনিরা জীবিত বন্দিদের হস্তান্তর করার পরেই ইসরাইল বিনিময়ে প্রায় দুই হাজার জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া শুরু করবে।

মধ্যপ্রাচ্যের কসাই খ্যাত দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের একজন মুখপাত্রের বলেন, ইসরাইল আশা করছে ২০ জন জীবিত বন্দিকে ‘সোমবার ভোরে’ রেড ক্রসের কাছে মুক্তি দেওয়া হবে।

এদিকে রোববার (১২ অক্টোবর) এনবিসি নিউজের মিট দ্য প্রেসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গাজা বা ইসরাইলে কোনো স্থলসেনা মোতায়েন করবে না। তিনি বলেন, আমরা সেখানে বুট পাঠানোর পরিকল্পনা করছি না। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সদস্যরা যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী পর্যবেক্ষণ করবেন এবং মানবিক সহায়তার বিতরণ তদারকি করবেন। 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের অভিযানের পর এই সংঘাত শুরু হয়। এসময় ২৫০ জনকে বন্দি করে হামাস। 

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, এরপর থেকে গাজায় ৬৭ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ইসরাইল। 

এই শান্তি চুক্তি গত দুই বছরের সংঘাতের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থা নিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা এখনও জটিল এবং অনিশ্চিত।

হামাসের মুখপাত্র লতিফ আর কানোয়া আরব নিউজকে বলেছেন, গাজা প্রশাসন দেখভাল করার জন্য একটি কমিটি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে হামাসের আপত্তি নেই।

এক সূত্রের বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানিয়েছে, হামাস ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাজার শাসনক্ষমতা তাদের কাছে হস্তান্তরে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে। তবে একটি শর্তে।

তা হচ্ছে, হামাসের কর্মচারীরা, যারা ২০০৭ সালে হামাসের গাজা দখলের পর নিয়োগ পেয়েছিল তাদের আবার স্বপদে বহাল করতে হবে এবং তাদের মজুরি ও অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।