ল্যুভরের আগে বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে যতসব বড় চুরি!

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ল্যুভর জাদুঘরে চুরির ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। মাত্র ৯ মিনিটে মহামূল্য জিনিস চুরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে চোরেরা। তবে জাদুঘরে চুরির ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

ল্যুভরের মত ইউরোপের অনেক দেশে এরকম চুরির ঘটনার নজির আছে অতীতেও। ২০০৪ সালে সাও পাওলো শীর্ষস্থানীয় শিল্প জাদুঘর থেকে পিকাসোর ১৯০৪ সালের ‘সুজান ব্লোচের প্রতিকৃতি’ এবং ক্যান্ডিডো পোর্টিনারির ১৯৩৯ সালের ‘দ্য কফি ওয়ার্কার’ চুরি করে নিয়ে যায়। যার মূল্য প্রায় সাড়ে ৫৫ লাখ ডলার। এক মাস পরই সেগুলো উদ্ধার করা হয়।

২০০৮ সালে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত বিখ্যাত জাদুঘর বুয়েরলের সংগ্রহ থেকে পল সেজান, এডগার দেগাস, ভ্যান গগ ও ক্লদ মনেটের প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি ডলার মূল্যের চারটি তৈলচিত্র চুরি হয়। যদিও কিছু সুময় পরই মনেট ও ভ্যান গগের ছবি উদ্ধার করা হয়। তবে ২০১২ সালে সেজানের ছবিটি পাওয়া যায় সার্বিয়ায়।

Louvre-robbery1

২০১০ সালে প্যারিসের মিউজিয়াম ডি'আর্ট মডার্ন দে লা ভিলে থেকে ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার মূল্যের পাঁচটি চিত্রকর্ম চুরি হয়। এসব শিল্পকর্মের মধ্যে পিকাসোর ‘ডাভ উইথ গ্রিন পিস’ এবং হেনরি ম্যাটিসের পাস্টোরেলও ছিল।

২০১২ সালে নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম কুনস্টাল জাদুঘর থেকে চুরি হয় পিকাসো, ম্যাটিস, মনেট এবং অন্যান্য শিল্পিদের আঁকা সাতটি চিত্রকর্ম। পিকাসোর চিত্রকর্ম উদ্ধারের পর দেখা যায় সেটি মূলত নকল ছবি ছিল। এই চুরির ঘটনায় ২০১৩ সালে রোমানিয়ান এক ব্যক্তি ও তার বেশ কয়েকজন সহযোগীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

Louvre-robbery2

পূর্ব জার্মানির স্যাক্সনি শহরের গ্রিন ভল্ট জাদুঘরের গ্রিল কেটে ২০১৯ সালে ৪,৩০০ টিরও বেশি হীরা চুরি হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ছিল প্রায় সাড়ে ১২ কোটি ডলার। বেশিরভাগ রত্নই পরে উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া, ২০২৩ সালে ব্রিটিশ জাদুঘর থেকে চুরি হয় সোনার গয়না ও রত্নসহ প্রায় ২০০০ নিদর্শন। করোনা মহামারীর সময় নেদারল্যান্ডসের বেশ কয়েকটি জাদুঘর থেকে বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন চুরি হয়।