যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরাইল আরো পাঁচ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে । এছাড়া আরও ৪৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ হস্তান্তর করেছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইলি হামলায় আরো তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে গাজার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা না থাকায় হাজার হাজার রোগী মৃত্যুমুখে পড়েছে।
কেউ কেউ ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরছেন, আবার কেউ কেউ উদ্বিগ্নভাবে এখনও নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা চালান।
যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবার ইসরায়েলি বাহিনী অজ্ঞাত পরিচয়ের ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দিয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্ত পাঁচজনকে পরীক্ষার জন্য দেইর এল-বালাহের আল-আকসা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বর্তমানে হাজারো ফিলিস্তিনি এখনো ইসরাইলের কারাগারে আটক রয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই অভিযোগ ছাড়াই আটক আছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, এটি এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী আটক।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে তারা আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি আইসিআরসি এর মাধ্যমে ইসরাইল থেকে এখন পর্যন্ত ২৭০ টি মৃতদেহ পেয়েছে।
এর আগে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে, ফেরত পাঠানো অনেক মৃতদেহের উপর নির্যাতনের প্রমাণ রয়েছে, যার মধ্যে হাত বাঁধা, চোখ বাঁধা এবং পরিচয়পত্র ছাড়াই মৃতদেহ ফেরত দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইলের অব্যাহত অবরোধের কারণে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নতুন ফরেনসিক সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না। এতে মরদেহ শনাক্ত করার প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাসিন্দারা তাদের জীবন নিয়ে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে। একদিকে তাদের ঘরবাড়ি নেই, অন্যদিকে খাবারের সংকট।
এ ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা না থাকায় হাজার হাজার রোগী মৃত্যুমুখে পড়েছে। বাস্তুচ্যুত শত শত পরিবার তাদের স্বজনের মরদেহ খুঁজে পাচ্ছে না।
আল জাজিরা জানায়, প্রায় চার হাজার শিশুসহ কমপক্ষে ১৫ হাজার রোগী গাজার বাইরে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে মিসর সীমান্তের রাফাহ ক্রসিং বন্ধ থাকায় তারা আটকা পড়েছেন।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় থেমে নেই ইসরাইলি হামলা । গাজার সাস্থ মন্ত্রনালয় জানিয়েছে দক্ষিণ গাজার রাফাহের উত্তরে ইসরাইলি গুলিতে কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।