শ্রীনগরে থানায় বিস্ফোরণকে নিছক দুর্ঘটনা বলছে কাশ্মীরের পুলিশ

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরের নওগাম থানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই পুলিশ ও ফরেনসিক দলের সদস্য। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিচালক নলিন প্রভাত জানিয়েছেন, থানায় বিস্ফোরণের ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, থানায় থাকা বিস্ফোরক পরীক্ষা করার সময় এ ঘটনা ঘটে। আহতের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার মধ্যরাতে শ্রীনগরের নওগাম থানা চত্বরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের এই ঘটনা ঘটে। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সম্প্রতি হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে ‘হোয়াইট-কলার’ সন্ত্রাসী মডিউল মামলায় বাজেয়াপ্ত করা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের একটি বড় ভাণ্ডার থানার ভেতরে সংরক্ষণ করা হয়। বিস্ফোরণের সময় পুলিশ ও ফরেনসিক দল সেগুলোই পরীক্ষা করছিলো। 

আর নিহতদের বেশিরভাগই পুলিশ ও ফরেনসিক দলের সদস্য। এছাড়া আহতের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে ঘটনায় থানা চত্বরে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলন করেন জম্মু কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিচালক নলিন প্রভাত। ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত বলে জানান তিনি। নলিন প্রভাত বলেন, উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক পদার্থের নমুনা প্রক্রিয়া এবং পরিচালনা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করা হচ্ছিল। তবে, দুর্ভাগ্যবশত, বিস্ফোরণের এই ঘটনা ঘটে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। 

কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, নাওগাম থানার পুলিশ সদস্যরা ওই এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী জইস-ই-মোহাম্মদের পোস্টার লাগানোর বিষয়টির সুরাহা করেছিল।

পোস্টারের সূত্র ধরে ব্যাপক বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কয়েকজন চিকিৎসককেও গ্রেপ্তার করা হয়। 

এরমধ্যে আদিল আহমেদ রাথের নামে এক চিকিৎসককে গত অক্টোবরে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এমন পোস্টার লাগাচ্ছিলেন যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী ও কাশ্মীরে বহিরাগতদের ওপর বড় হামলার হুঁশিয়ারি বাক্য ছিল। তাকে গ্রেপ্তারের পর একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া যায়। যারা সম্প্রতি দিল্লিতে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করে।