আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে আবারও ভয়াবহ সংঘর্ষ

আফগানিস্তানের তালেবান ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ আবারও শুরু হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বরাবর অবস্থিত আফগান শহর স্পিন বোলদাক থেকে বাসিন্দারা রাতারাতি পালিয়ে গেছেন।

কান্দাহার শহরের একজন চিকিৎসা কর্মী বিবিসি পশতুকে জানিয়েছেন, স্থানীয় হাসপাতালে চারটি মরদেহ আনা হয়েছে। আরও চারজন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানে তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বিক্ষিপ্ত লড়াই দেখা গেছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দেশের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগও এনেছে।

উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে যে তারা রাতারাতি গোলাবর্ষণ করেছে, তবে চার ঘণ্টার লড়াই শুরু করার জন্য প্রত্যেকে অন্য পক্ষকে দায়ী করেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি তালেবানকে কোনো কারণ ছাড়াই গুলি শুরু করার অভিযুক্ত করেছেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক, উপযুক্ত এবং তীব্র জবাব দিয়েছে। পাকিস্তান তার আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং তাদের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণরূপে সতর্ক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে, তালেবানের একজন মুখপাত্র বলেছেন যে পাকিস্তান আবারও হামলা শুরু করেছে এবং তারা জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে।

সীমান্তের আফগান দিকের বাসিন্দারা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে দশটার দিকে গোলাবর্ষণ শুরু হয়। এলাকা থেকে আসা বিভিন্ন  ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিপুলসংখ্যক আফগান হেঁটে এবং গাড়িতে করে পালিয়ে যাচ্ছেন।

কান্দাহারের তথ্য বিভাগের প্রধান আলী মোহাম্মদ হাকমাল বলেছেন, পাকিস্তানের বাহিনী হালকা ও ভারী কামানের সাহায্যে আক্রমণ চালিয়েছে এবং মর্টার হামলায় বেসামরিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এই সর্বশেষ সংঘর্ষ শুরু হলো।

ওই যুদ্ধবিরতি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়েছিল, যেখানে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছিল। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর এটি ছিল পাকিস্তান ও তালেবানের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সংঘর্ষ, যদিও উত্তেজনা তখনও বেশি ছিল।

ইসলামাবাদ সরকার দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ করে আসছে।

তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পাকিস্তানকে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য অন্যদের দোষারোপ করার অভিযোগ করেছে।

আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট অনুসারে, তালেবান বাহিনী গত এক বছরে পাকিস্তানি বাহিনীর উপর কমপক্ষে ৬০০টি হামলা চালিয়েছে।

গত সপ্তাহে, একটি বৃহত্তর শান্তি চুক্তির বিষয়ে আলোচনার চতুর্থ পর্বের জন্য উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদল সৌদি আরবে মিলিত হয়েছিল, কিন্তু কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। আলোচনা সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো বিবিসি নিউজকে জানিয়েছে, উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছিল।