চেক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেল মঙ্গলবার দেশের বিলিয়নেয়ার পপুলিস্ট এএনও পার্টির নেতা আন্দ্রে বাবিসকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেছেন। অক্টোবরে সংসদীয় নির্বাচনে বাবিসের দল এএনও জয়ী হওয়ার পর সরকার গঠনের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
১৫ ডিসেম্বর বাবিসের পূর্ণ মন্ত্রিসভা শপথ নেয়ার পর তিনি ইউক্রেনপন্থী একটি প্রশাসনের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন। বাবিস নিজে বেলারুশ অর্থাৎ মস্কোপন্থী হিসাবে পরিচিত।
চার বছর বিরোধী দলে থাকার পর ৭১ বছর বয়সী বাবিস আবার ক্ষমতায় ফিরছেন। এই সময়ে তিনি উদার পন্থা থেকে সরে এসে ইউরোপের প্রান্তিক ডানপন্থী দলগুলোর দিকে ঝুঁকেছেন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ‘প্যাট্রিয়টস ফর ইউরোপ’-এ যোগ দিয়েছেন।
নিয়োগ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট পাভেল বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটোর সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য বাবিসের প্রতি আবেদন জানান।
পাভেল বলেন, আমাদের বেশ কিছু সমস্যার সমাধান করতে হবে, যা জনগণের জন্য খুব একটা সুখকর হবে না, যার জন্য শুধু দৃষ্টিভঙ্গিই নয়, সাহসেরও প্রয়োজন হবে। এর জন্য আমাদের ইইউ ও ন্যাটোর প্রতি অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা চলবে না এবং একটি গঠনমূলক পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।
বাবিস বলেছেন, তিনি দেশে ও বিদেশে চেকদের স্বার্থ রক্ষা করতে চান এবং ১৮-১৯ ডিসেম্বরের ইইউ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য সময়মতো তাঁর মন্ত্রিসভা গঠন করতে চান।
ইইউ’র সমালোচনা করে বাবিস বলেন, আমরা প্রস্তাব করব ইইউ শুধুমাত্র ইউক্রেনকে সহায়তার মতো বিষয় নিয়ে যেন ব্যস্ত না থাকে বরং জ্বালানি, শুল্ক ফাঁকির মতো বিষয়গুলোও সমাধান করা উচিত। ইইউ শুধু ব্যয় নিয়েই ভাবতে ও পরিকল্পনা করতে ভালোবাসে, আয়ের দিকে খুব কম।
ইউক্রেন প্রসঙ্গে বাবিস জাতীয় বাজেট থেকে সামরিক সহায়তা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন, নতুন সরকার চেক-পরিচালিত গোলাবারুদ সংগ্রহ উদ্যোগটি বন্ধ করে দিতে পারে, যার মাধ্যমে ইউক্রেনের জন্য বিশ্বজুড়ে বড় আকারের গোলাবারুদ সংগ্রহ করা হয়।
বাবিস এই স্কিমটিকে স্বচ্ছ নয় এবং বেশি দামের বলে সমালোচনা করেছেন, যদিও প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি এখনো সুস্পষ্ট অবস্থান নেননি। এই প্রকল্পের প্রতি প্রেসিডেন্টের জোরালো সমর্থন রয়েছে।
ক্ষমতা গ্রহণের আগে বাবিস গত সপ্তাহে ঘোষণা করেন, তিনি তাঁর প্রধান প্রতিষ্ঠান এগ্রোফার্ট, যা রাসায়নিক, খাদ্য, কৃষি এবং অন্যান্য ব্যবসার ২০০টিরও বেশি কোম্পানির একটি গোষ্ঠীকে একটি ট্রাস্ট কাঠামোর অধীনে স্থানান্তর করবেন, যাতে প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়ানো যায়।
এছাড়াও, বাবিসের বিরুদ্ধে প্রাগের বাইরে একটি সম্মেলন ও বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য দুই মিলিয়ন ইউরো ভর্তুকি জালিয়াতি করে পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বাবিস সেই অর্থ ফেরত দিয়েছেন কিন্তু কোনো ভুল করার কথা অস্বীকার করেন। একটি আপিল আদালত এই মামলায় তাঁর খালাস বাতিল করে পুনরায় বিচারের নির্দেশ দিয়েছে, কিন্তু বাবিসকে যদি সংসদ (যা তার মিত্রদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত) তার দায়মুক্তি তুলে নিতে ভোট না দেয়, তবে তিনি সম্ভবত এই পুনরায় বিচার এড়াতে পারবেন।