গত সপ্তাহে সিডনির বিখ্যাত ও জনপ্রিয় বন্ডি বিচে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্দুক হামলার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই কঠোর আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এই হামলার প্রেক্ষাপটে নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য সরকার ‘ইন্তিফাদা’ স্লোগানকে বৈশ্বিকভাবে প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই স্লোগানটিকে ‘ঘৃণ্য ভাষণ’ বা হেইট স্পিচ হিসেবে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রধান ক্রিস মিনস আগামী সপ্তাহে রাজ্য পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছেন। সেখানে ঘৃণা ছড়ানো স্লোগান এবং বন্দুক নিয়ন্ত্রণের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। ১৫ জন মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া এই হামলাকে গত ৩০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলার নেপথ্যে ‘আইএস মতাদর্শ’ কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রিমিয়ার মিনস জানান, ‘ইন্তিফাদা’ স্লোগানটি জনসমক্ষে ব্যবহার করলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি লন্ডনেও একই ধরনের স্লোগান দেয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারো মতে এটি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের ডাক, আবার কারো মতে এটি ইহুদিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সহিংসতার উসকানি।
বন্ডি বিচের সেই বিভীষিকাময় দিনটির এক সপ্তাহ পূর্ণ হতে চলায় রোববার অস্ট্রেলিয়া জুড়ে জাতীয় প্রতিফলন দিবস পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়- অন্ধকারের ওপর আলো)। এদিন সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে (হামলা শুরুর সময়) পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করবে।
অস্ট্রেলীয়দের অনুরোধ করা হয়েছে তাদের জানালায় মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। জাতীয় পতাকা এদিন অর্ধনমিত রাখা হবে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেছেন, এই নীরবতা আমাদের মনে করিয়ে দেবে যে, ঘৃণা ও সহিংসতা কখনো অস্ট্রেলীয়দের পরিচয় হতে পারে না।"
হামলার সময় জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়া বন্ডির সার্ফ ভলান্টিয়ার ও লাইফগার্ডদের বীরত্বকে সম্মান জানাচ্ছে পুরো দেশ। শনিবার সিডনির সৈকতে প্রায় এক হাজার লাইফগার্ড সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সাগরের দিকে মুখ করে এক অনন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন। শত শত সার্ফার সমুদ্রের মাঝখানে বৃত্ত তৈরি করে নিহতদের স্মরণ করেছেন।
১৯৯৬ সালের পোর্ট আর্থার হত্যাকাণ্ডের পর এটিই ছিল অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় বন্দুক হামলা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ নতুন করে ‘গান বাইব্যাক’ অর্থাৎ নাগরিকদের কাছ থেকে অস্ত্র কিনে নেয়ার প্রকল্প ঘোষণা করেছেন, যার আওতায় অবৈধ ও অতিরিক্ত আগ্নেয়াস্ত্র সরকার কিনে নিয়ে ধ্বংস করবে। এছাড়া পুরো ঘটনার তদন্তে একটি রয়্যাল কমিশন গঠনেরও ডাক দিয়েছেন প্রিমিয়ার মিনস।
সম্প্রতি হামলার সর্বকনিষ্ঠ শিকার ১০ বছর বয়সী মাটিল্ডার শেষকৃত্যে অংশ নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ক্রিস মিনস। তিনি মাটিল্ডার স্মরণে একটি কবিতা পাঠ করেন, যা উপস্থিত জনতাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।