তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেইতে এক ভয়াবহ ছুরি হামলার ঘটনায় কমপক্ষে তিন জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্যস্ততম অফিস ছুটির সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী ২৭ বছর বয়সী তাইওয়ানি যুবক চাং ওয়েন নিজেও একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জং-তাই।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ তাইপে’র প্রধান মেট্রো স্টেশনে প্রথম হামলাটি শুরু হয়। হামলাকারী সেখানে ধোঁয়া বোমা এবং পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর সে ভূগর্ভস্থ শপিং স্ট্রিট দিয়ে পাশের ঝোংশান স্টেশনের দিকে অগ্রসর হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কালো পোশাক এবং বেসবল ক্যাপ পরা ওই যুবক হাতে বিশাল একটি বড় ছুরি নিয়ে সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই আঘাত করেছে। এক ব্যক্তি তাকে থামানোর চেষ্টা করলে তাকে ভোঁতা কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়, পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
ঝোংশান স্টেশনের কাছে গিয়ে হামলাকারী আবারও ধোঁয়া বোমা ফাটায়। এরপর সে একটি বুকশপ ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে প্রবেশ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে ঘিরে ফেললে পালানোর চেষ্টায় সে একটি বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই এই ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রিমিয়ার চো জং-তাই জানিয়েছেন, মেট্রো স্টেশন, রেলওয়ে স্টেশন এবং বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হামলাকারীর অপরাধের রেকর্ড ছিল এবং সে পুলিশের ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। তবে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য বা কোনো সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
তাইওয়ানে সাধারণত অপরাধের হার খুবই কম। সর্বশেষ ২০১৪ সালে সিটিক মেট্রোতে এমন একটি বড় হামলা হয়েছিল, যেখানে চার জন নিহত হয়েছিলেন। দীর্ঘ এক দশক পর এমন প্রাণঘাতী হামলা তাইপের জনমনে গভীর আতঙ্ক ও শোকের সৃষ্টি করেছে।