বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার দিল্লির চাণক্যপুরীতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং বজরং দল। বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ধরপাকড় শুরু করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এদিন সকালে শত শত বিক্ষোভকারী হাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাইকমিশন ঘেরাও করতে অগ্রসর হয়। তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তিন স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করলেও উত্তেজিত জনতা কমপক্ষে দুটি স্তরের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে।
বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুতুল দাহ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে এবং বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে আটক করে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধের জন্য ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এই বিক্ষোভের মূলে রয়েছে গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় সংঘটিত একটি নির্মম ঘটনা। ২৫ বছর বয়সী পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে তার মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। মঙ্গলবার ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায়।
এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দিল্লি ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং শান্তির মূল্যবোধের পরিপন্থী। এছাড়া গত ২২ ডিসেম্বর শিলিগুড়িতে বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারে ভাঙচুরের ঘটনারও নিন্দা জানানো হয় এবং ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লিকে আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে, নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভটি ছিল সংক্ষিপ্ত এবং এতে বড় ধরনের কোনো হুমকির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক অবস্থান এবং রাজপথের উত্তাপ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।