পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ভয়াবহ হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার প্রদেশটির কারাক জেলায় এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা উগ্রবাদী সহিংসতার ধারাবাহিকতায় এই সর্বশেষ রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটলো।
প্রাদেশিক পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, পুলিশের ভ্যানটি যখন নিয়মিত টহলে ছিল, তখন সেটিকে লক্ষ্য করে প্রথমে একটি আইইডি বা হাতে তৈরি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের পরপরই ওত পেতে থাকা হামলাকারীরা ভ্যানটি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ভ্যানচালক প্রাণ হারান।
এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এই হামলার দায় নেয়নি। উল্লেখ্য, কারাক জেলাটি সাধারণত উগ্রবাদী হামলার জন্য পরিচিত ছিল না, ফলে এই নতুন এলাকায় হামলাটি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে।
এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পুলিশ সব সময় সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা পালন করেছে। তিনি নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দায়ীদের শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেন।
এই হামলার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইসলামাবাদের দাবি, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান এবং অন্যান্য উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো আফগান মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানের ভেতরে নাশকতা চালাচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংকট তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
বিগত ২০ বছর ধরে এই সীমান্ত অঞ্চলে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সীমান্তে বড় ধরনের সংঘর্ষের পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাস্তবের ‘ধুরন্ধর’ করাচির ত্রাস উজায়ের বালোচ অনেক বেশি ভয়ংকর
চীনের হাতে আরও শতাধিক আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র: পেন্টাগন