ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল তাঁর দৈনন্দিন কাজে মোবাইল ফোন কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না বলে জানিয়েছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) নয়াদিল্লিতে এক সংলাপ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে তরুণ অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই তথ্য জানান।
ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এক প্রশ্নোত্তর পর্বে এই প্রাক্তন গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- তিনি মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট এড়িয়ে চলেন কি না।
উত্তরে অজিত দোভাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটা সত্যি যে আমি ইন্টারনেট ব্যবহার করি না। এমনকি পারিবারিক বিষয় কিংবা প্রয়োজনে অন্য দেশের মানুষের সাথে কথা বলা ছাড়া আমি ফোনও ব্যবহার করি না। আমি এভাবেই আমার কাজ পরিচালনা করি। যোগাযোগের আরও অনেক মাধ্যম আছে এবং এমন কিছু বাড়তি পদ্ধতিও গড়ে তুলতে হয়, যা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ অবগত নয়।
অজিত দোভাল ভারতের পঞ্চম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। কেরালা ক্যাডারের একজন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কয়েক দশক ধরে গোয়েন্দা সংস্থা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
১৯৪৫ সালে উত্তরাখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী দোভাল ১৯৬৮ সালে আইপিএস-এ যোগ দেন। তিনি সর্বকনিষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সাহসিকতার জন্য ‘কীর্তি চক্র’ পদক পান। কর্মজীবনে তিনি মিজোরাম, পাঞ্জাব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিদ্রোহ দমনে ব্যাপকভাবে কাজ করেছেন।
২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং ২০১৯ সালের বালাকোট বিমান হামলার মতো প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোতে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া ডোকলাম অচলাবস্থা নিরসন এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কৌশলে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে।
১৯৯৯ সালে কান্দাহারে আইসি-৮১৪ বিমান অপহরণ সংকটের সময় তিনি অন্যতম মধ্যস্থতাকারী ছিলেন। ১৯৭১ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে তিনি একাধিক বিমান অপহরণ মামলা পরিচালনা করেছেন। এছাড়াও তিনি পাকিস্তানে দীর্ঘ সময় ছদ্মবেশে কাজ করেছেন।
গত বছর সরকারের ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা ডোভালের নামে প্রচারিত একটি ভুয়া ফেসবুক পোস্ট শনাক্ত করে, যেখানে নাগরিকদের পাকিস্তানের সাইবার হামলা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো স্পষ্ট করে জানায়, অজিত দোভালের কোনো অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই এবং তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে প্রচারিত পোস্টটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।