মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরোধীদলীয় ব্যক্তিত্ব রেজা পাহলভি সম্পর্কে বলেছেন, তাঁকে খুবই চমৎকার মানুষ বলে মনে হয়। তবে পাহলভি শেষ পর্যন্ত ইরান শাসনের ভার নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জনসমর্থন দেশটিতে গড়ে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প সংশয় প্রকাশ করেছেন।
ওভাল অফিসে বুধবার রয়টার্সকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতন ঘটার একটি সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে রাশিয়ার সাথে আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেন এবং ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের তদন্ত নিয়ে সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে ট্রাম্প বারবার হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও, ১৯৭৯ সালে ক্ষমতাচ্যুত ইরানের প্রয়াত শাহর পুত্র রেজা পাহলভিকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে বুধবার তিনি কিছুটা অনীহা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তাঁকে (পাহলভি) দেখে খুব ভালো মানুষ মনে হয়, কিন্তু তাঁর নিজের দেশের ভেতরে তাঁর অবস্থান কেমন হবে তা আমি জানি না। আর আমরা আসলে এখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি। তিনি আরও যোগ করেন, আমি জানি না তাঁর দেশ তাঁর নেতৃত্ব গ্রহণ করবে কি না। তবে তারা যদি তাঁকে গ্রহণ করে, তবে আমার তাতে কোনো আপত্তি নেই।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, পাহলভির সাথে তাঁর দেখা করার কোনো পরিকল্পনা নেই; বুধবারের মন্তব্য তাঁর সেই অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করল।
বিরোধী শিবিরে অনৈক্য
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ৬৫ বছর বয়সী পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে থেকেই ইরানের বাইরে বসবাস করছেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তিনি অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছেন। তবে ইরানের বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন গোষ্ঠী ও আদর্শে বিভক্ত এবং ইরানের ভেতরে তাদের কোনো সুসংগঠিত সাংগঠনিক উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির উপ-পরিচালক সানাম ওয়াকিলও ট্রাম্পের এই সতর্ক অবস্থানের প্রতিধ্বনি করেছেন। তিনি বলেন, পাহলভি কিছু বিক্ষোভকারীর মধ্যে জনপ্রিয়তা পেলেও এবং তাদের কিছুটা সংগঠিত করতে পারলেও, তাঁর সমর্থন কতটা তা বলা কঠিন।
জেলেনস্কিই ‘প্রধান বাধা’
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি এক দিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম বছর পার করলেও তিনি তা শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। ট্রাম্প এখন বলছেন, এই চার বছরের যুদ্ধ মিটিয়ে ফেলার প্রধান বাধা হলেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।
ট্রাম্প বলেন, পুতিন চুক্তি করতে প্রস্তুত। যখন জিজ্ঞেস করা হলো তবে দেরি হচ্ছে কেন, ট্রাম্প সরাসরি বলেন, জেলেনস্কি। তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে এতে রাজি করাতে হবে।
দলীয় আনুগত্য ও অর্থনীতি
ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের মনোনীত কর্মকর্তাদের নিয়োগে বাধা দেওয়ার যে হুমকি দিয়েছেন, তা নাকচ করে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমার কিছু যায় আসে না। তাদের উচিত (দলের প্রতি) অনুগত থাকা।
এছাড়া বৃহস্পতিবার ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোর সাথে ট্রাম্পের সাক্ষাতের কথা রয়েছে। মাচাদো গত বছর তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পকে উৎসর্গ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যদিও নোবেল কমিটি জানিয়েছে এই পুরস্কার হস্তান্তরযোগ্য নয়।
সাক্ষাৎকারের শেষে ট্রাম্প মার্কিন অর্থনীতির শক্তিমত্তার প্রশংসা করেন এবং জানান, আগামী সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি আমেরিকার শক্তিশালী কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক সাফল্যের বার্তা তুলে ধরবেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দাভোসে ট্রাম্প সুইজারল্যান্ড, পোল্যান্ড এবং মিশরের নেতাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।