সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় ইসরাইল

ইরানের চলমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সুযোগে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে বলে ধারণা করছে ইসরাইল। হিব্রু ব্রডকাস্টিং অথরিটির বরাত দিয়ে বুধবার রাতে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন যে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগে তেল আবিবকে সতর্কবার্তা দেবে।

ইসরাইলি কর্মকর্তাদের অনুমান অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই মার্কিন অভিযানে সরাসরি সামরিক হামলার পাশাপাশি বড় ধরনের সাইবার হামলাও চালানো হতে পারে। এই পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে ইসরাইলের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সতর্কতার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।

প্রতিবেদনে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অবস্থান করছেন।

সেখানে তিনি আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এই সফরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি নির্দেশ জারি না করা হলেও, স্থানীয় পৌরসভাগুলো আগাম সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিয়ারশেবা এবং গান ইয়াভনে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য পাবলিক শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো খুলে দিয়েছে। এর আগে ডিমোনা শহর কর্তৃপক্ষও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে একই পদক্ষেপ নিয়েছিল।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরানের ওপর ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। উভয় দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে একাধিকবার ইরানি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের আশা প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছেন। 

আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক পদক্ষেপের দিকে এগোতে পারে।