ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়া ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ স্থগিত করেছে দেশটি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এমনটা দাবি করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং উপসাগরীয় মিত্রদের চাপে ইরান এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান লেভিট।
লেভিট বলেন, ইরান সরকার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যেদিন ওই বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, তার আগেই দণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।
এদিকে ইরানে টানা কয়েকদিনের তীব্র বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নেমেছে কিছুটা নীরবতা। সহিংস আন্দোলনের শৈথিল্যের মধ্যেই পাল্টাপাল্টি হুমকি আর হুঁশিয়ারি চলছে ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে।
গত কয়েকদিন ধরে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে রীতিমতো কেঁপে উঠেছে ইরান। গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ।
এদিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জাতিসংঘের মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, ইরানে চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব বিকল্পই খোলা রয়েছে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন। এছাড়া ইরান যে বিক্ষোভকে বিদেশি ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছে, তা নাকচ করে দেন ওয়াল্টজ।
তিনি বলেন, বিশ্বের সবারই জানা দরকার যে ইরানের শাসকরা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দুর্বল, আর সে কারণেই রাস্তায় নেমে আসা ইরানি জনগণের শক্তির মুখে তারা এমন মিথ্যাকে সামনে এনেছে। তারা ভীত, তারা নিজের দেশের লোকজনকে নিয়েই ভীত।
এর জবাবে জাতিসংঘে ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূত ঘোলামহোসেইন দারজি বলেন, ইরান কোনো সংঘাত বা উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, তথ্য বিকৃতি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তোলেন।
অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস-এর পক্ষ সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মার্থা পোবে বলেন, এই সংবেদনশীল সময়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানো জরুরি।