ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাড়তে থাকা চরম উত্তেজনার মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় এক বার্তা দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। ওয়াশিংটন যখন ইরানের ওপর সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে, ঠিক তখনই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল আবুধাবি। খবর মিডল ইস্ট মনিটর।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজার মাঝেই শান্তি ও কূটনীতির পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ‘সামরিক অভিযানে’ আমিরাতের আকাশসীমা, জলসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তেহরানের ওপর যে কোনো সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে আমিরাত কোনো ধরনের লজিস্টিক বা কৌশলগত সহায়তা প্রদান করবে না। আমিরাত বিশ্বাস করে, বর্তমান সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আলোচনার মাধ্যমেই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান সম্ভব। কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ মেটানোর ওপরই জোর দিচ্ছে এই উপসাগরীয় দেশটি।
ইরানে অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিমানবাহী রণতরি 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন' এবং তিনটি ডেস্ট্রয়ার ইতিমধ্যেই ভারত মহাসাগর হয়ে ওমান উপসাগরের দিকে রওনা হয়েছে। ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ওয়াশিংটন ইরানের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা। এজন্য সামরিক হামলাসহ সব পথ খোলা রাখা হয়েছে বলে দাবি করছে হোয়াইট হাউস।
আমিরাতের এই ঘোষণা তেহরানের জন্য কিছুটা স্বস্তির হলেও ইরান সরকার ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছে, যে কোনো মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে তারা ‘দ্রুত এবং ব্যাপক’ প্রতিশোধ নেবে। উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের একটি যুদ্ধ চালিয়েছিল, যার জবাবে তেহরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পরে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়।
উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী দেশ হিসেবে আমিরাতের এই নিরপেক্ষ অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। একদিকে মার্কিন রণতরির উপস্থিতি আর অন্যদিকে আমিরাতের এই ‘নো-পারমিশন’ নীতি- সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক জটিল সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে।