ভূমিধ্বস জয়ের পরই কর কমানোর ঘোষণা তাকাইচির

জাপানের সাধারণ নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর খাদ্যপণ্যের ওপর বিক্রয় কর কমানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ি তাকাইচি। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে খাদ্যের ওপর বিদ্যমান ৮ শতাংশ কর আগামী দুই বছরের জন্য স্থগিত করা তাঁর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এবং এটি দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে।

জাপানের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভূমিধ্বস জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী সানায়ি তাকাইচি তাঁর অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে আগ্রাসী অবস্থানে রয়েছেন। সোমবার তিনি স্পষ্ট করেন, জাপানের স্থবির অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং জনগণকে স্বস্তি দিতে ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ বা সক্রিয় রাজস্ব নীতিই হবে তাঁর সরকারের মূল ভিত্তি।

নির্বাচনী প্রচারে তাকাইচি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, জাপানি পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খরচ কমাতে খাদ্যের ওপর আট শতাংশ সেলস ট্যাক্স দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হবে। সোমবার তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই কর স্থগিত কার্যকর করা হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে তিনি কোনো নতুন ঋণ (বন্ড ইস্যু) নেবেন না বলে সোজা জানিয়ে দিয়েছেন।

তাকাইচির এই জয় এবং রাজস্ব নীতিতে পরিবর্তনের ঘোষণায় জাপানের শেয়ারবাজার সোমবার সর্বকালীন উচ্চতায় পৌঁছায়। তবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি প্রাথমিক উদ্বেগ ছিল, বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ঋণগ্রস্ত দেশ জাপান কীভাবে এই বিশাল অর্থের (প্রতি বছর প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার) সংস্থান করবে।

অন্যদিকে, জাপানের শীর্ষ মুদ্রা কূটনীতিকদের মৌখিক সতর্কবার্তার পর ইয়েনের মান কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। এর আগে মুদ্র বাজারে ইয়েনের দরপতন ঘটেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, কর স্থগিত করার ফলে প্রতি বছর সরকারের প্রায় পাঁচ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার) রাজস্ব কমবে, যা জাপানের বার্ষিক শিক্ষা বাজেটের সমান। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে প্রধানমন্ত্রী কিছু বিকল্পের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সরকারের হাতে থাকা অন্যান্য আয়ের উৎস ব্যবহার ও বিদ্যমান কিছু অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমিয়ে আনার কথা ভাবছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

জাপানের কাছে থাকা ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। তবে মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করে এই অর্থ সংগ্রহ করা হলে তা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এলডিপি-র ভেতরে যারা কঠোর রাজস্ব নীতি পছন্দ করেন, নির্বাচনের এই বিশাল জয় তাদের কণ্ঠ রোধ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিএনপি পারিবাসের  প্রধান অর্থনীতিবিদ রিউতারো কোনো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন অতীতের রাজস্ব নীতি অত্যন্ত সংকীর্ণ ছিল। এটি পরিষ্কার যে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয় পরিচালিত প্রথাগত নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন।

তাকাইচি জানিয়েছেন, এখন থেকে বাজেট প্রণয়নের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হবে যাতে করপোরেট বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধির পথ সুগম হয়।