ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় বাড়তি সুরক্ষা

সম্প্রতি স্যাটেলাইট ছবিতে উঠে এসেছে ইরানের সামরিক ঘাঁটির নানা কার্যক্রম। এসব ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশটি নতুন নির্মাণ, কংক্রিটের সুরক্ষা-ঢাল এবং ভূগর্ভস্থ প্রবেশপথ বন্ধের মতো নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। আর এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইরান নীরবে তাদের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় সুরক্ষা বাড়াচ্ছে।

ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে অবস্থিত পারচিন দেশটির সবচেয়ে সংবেদনশীল সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, প্রায় দুই দশক আগে এখানে পারমাণবিক বিস্ফোরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। যদিও ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।


২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরাইলের একাধিক হামলায় পারচিনের একটি ভবন গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৬ নভেম্বরের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ১৪ নভেম্বরের ছবিতে বড় ভবনের ওপর কংক্রিটের ছাদ বসানোর দৃশ্য স্পষ্ট হয়। কিন্তু এরপর ১৩ ডিসেম্বরের চিত্রে স্থাপনাটি আংশিকভাবে ঢেকে যেতে দেখা যায়। আর যা ১৬ ফেব্রুয়ারির সর্বশেষ ছবিতে স্থাপনাটি প্রায় অদৃশ্য। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কংক্রিটের সুরক্ষা কাঠামোর আড়ালে সেটিকে মাটির নিচে লুকিয়ে ফেলা হয়েছে।

ইরানের তিনটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের একটি ইস্পাহান। গত বছর জুনে যুক্তরাষ্ট্র এখানে বোমা হামলা চালায়। জানুয়ারির শেষ দিকে তোলা ছবিতে দুটি সুড়ঙ্গের প্রবেশদ্বার মাটিতে ঢেকে দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এখন ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সটির সব প্রবেশপথই মাটির নিচে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা ইরানের বেশিরভাগ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এই ভূগর্ভস্থ এলাকাতেই সংরক্ষিত।


এছাড়াও বাকি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপনাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর দিকে নজর বাড়িয়েছে তেহরান। সম্ভাব্য হামলা মোকাবেলায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে দেশটি। কাঠামোগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই নির্মাণ ও সুরক্ষা জোরদার কার্যক্রম শুধুই ক্ষয়ক্ষতি মেরামত নয়, বরং ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে কৌশলগত প্রস্তুতির অংশও হতে পারে। তবে তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব স্থাপনায় নতুন কোনো সামরিক বা পারমাণবিক কর্মসূচির কথা স্বীকার করেনি।