যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার-এ-লাগো রিসোর্টের সুরক্ষিত সীমানায় অনুপ্রবেশ করার পর রোববার ভোরে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের গুলিতে এক সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছে স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে। ওই সময় ট্রাম্প ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে ছিলেন এবং তিনি রিসোর্টে উপস্থিত ছিলেন না।
সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমির ভাষ্য অনুযায়ী, এজেন্টরা এক ব্যক্তিকে অবৈধভাবে এস্টেটের সুরক্ষিত সীমানায় প্রবেশ করতে দেখেন। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আনুমানিক ২০ বছর বয়সী ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে উত্তর গেটের কাছে একটি শটগান এবং একটি জ্বালানি ভর্তি ক্যান হাতে দেখা যায়।
এজেন্টরা সেই ব্যক্তির মুখোমুখি হন এবং তাকে হাতের জিনিসপত্র ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাম বিচ কাউন্টি শেরিফ রিক ব্র্যাডশ জানান, লোকটি জ্বালানির ক্যানটি নিচে রাখলেও পরে শটগানটি উঁচিয়ে গুলি করার পজিশন নেন। ঠিক সেই মুহূর্তে একজন শেরিফ ডেপুটি এবং দুজন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই সন্দেহভাজন ব্যক্তির মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এই ঘটনায় কোনো আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা আহত হননি এবং সিক্রেট সার্ভিসের সুরক্ষায় থাকা কোনো ব্যক্তিও সেখানে ছিলেন না।
কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি এবং তারা তার পরিবারকে খবর দেওয়ার চেষ্টা করছে। ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে ঘটে চলা হুমকি ও হামলার ঘটনার মধ্যেই এই নতুন ঘটনাটি ঘটল। চলতি মাসের শুরুর দিকে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডার একটি গলফ কোর্সে ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার দায়ে ৫৯ বছর বয়সী রায়ান রুথকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তারও দুই মাস আগে পেনসিলভেনিয়ায় একটি নির্বাচনী জনসভায় ২০ বছর বয়সী ম্যাথিউ ক্রুকস ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি গুলি ছোঁড়েন, যা তার ডান কান ছুঁয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল।
সেই হামলায় র্যালিতে উপস্থিত একজন নিহত হন এবং ক্রুকস নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। তার উদ্দেশ্য এখনও অস্পষ্ট। রবিবারের এই গোলাগুলির ঘটনা ক্রমবর্ধমান বিভক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সহিংসতার সর্বশেষ নজির হিসেবে চিহ্নিত হলো।