মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর বৃহত্তম সামরিক সমাবেশ ঘটাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’। ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই রণতরীটি বর্তমানে ইসরাইলের হাইফা বন্দরের অভিমুখে রয়েছে।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, রণতরীটি গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সুদা বে-তে অবস্থান করছিলো। ২০ ফেব্রুয়ারি এটি জিব্রাল্টার উপকূলে দেখা গিয়েছিল, যা নিশ্চিত করে এটি এখনও মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছায়নি। তবে এই রণতরীটি বর্তমানে একটি বিব্রতকর যান্ত্রিক সমস্যায় জর্জরিত।
জানা গেছে, এর ভ্যাকুয়াম পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বারবার বিকল হয়ে পড়ছে। সরু পাইপ এবং ঘনঘন জট পাকানোর ফলে জাহাজের নাবিকদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গত জানুয়ারি মাসে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ধরার অভিযানের সময় থেকেই এই সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, রণতরীর অভ্যন্তরীণ এই সমস্যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলবে না। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র শুধু এই রণতরীর ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি থেকে একযোগে আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা তারা বজায় রেখেছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে তেহরানের ওপর সমন্বিত হামলা চালাতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য এখন এক বিশাল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আরব সাগরে আগে থেকেই মোতায়েন রয়েছে মার্কিন রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন'। এছাড়া গত কয়েকদিনে কাতার ও অন্যান্য ঘাঁটি থেকে বিপুল পরিমাণ মার্কিন জ্বালানি ট্যাঙ্কার এবং সি-১৭ গ্লোবমাস্টার কার্গো বিমান ইসরাইলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও তাদের রণকৌশল সাজাচ্ছে। খবর পাওয়া গেছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী লেবাননে হিজবুল্লাহর কমান্ড সরাসরি নিজেদের হাতে নিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে তা শুধু ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলে একটি মহাযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে।
বৃহস্পতিবার জেনিভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরবর্তী দফার পরমাণু আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই আলোচনার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এবং তাঁর বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের পরামর্শ নিয়ে তিনি হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ট্রাম্পের ভাষায়, হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি হবে একমাত্র আমার।
বিশ্বের নজর এখন জেনেভা বৈঠক এবং সমুদ্রপথে এগিয়ে আসা ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড-এর দিকে। কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে এই বিশাল সামরিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার মতো কোনো সংঘাতের সূচনা করতে পারে।