২০২৫ সালেও অভিবাসন রুটে থামেনি মৃত্যুর মিছিল

স্থল ও জলপথে বিপজ্জনক অভিবাসন রুটগুলোতে প্রাণহানির মিছিল থামছেই না। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত এক বছরে ভূমধ্যসাগর ও হর্ন অব আফ্রিকার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথে প্রায় ৮,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। তবে সংস্থাটির আশঙ্কা, তহবিলের অভাবে ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে বৈধ অভিবাসনের পথ সংকুচিত হওয়া এবং সীমান্ত কড়াকড়ি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ ক্রমেই মানব পাচারকারী ও বিপজ্জনক সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। আইওএম-এর মহাপরিচালক অ্যামি পোপ এই পরিস্থিতিকে একটি বৈশ্বিক ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তাঁর মতে, নিরাপদ পথের অভাবে মানুষ চোরাকারবারিদের হাতে জীবন সঁপে দিতে বাধ্য হচ্ছে, যা কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।

ছবি: সংগৃহীত
আইওএম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অভিবাসন পথে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল প্রায় ৯,২০০, যা ২০২৫ সালে কমে ৭,৬৬৭-তে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আমেরিকা অঞ্চলে অবৈধ পথে যাত্রা কিছুটা কমলেও, সামগ্রিক এই নিম্নমুখী সংখ্যাটি আসলে পরিস্থিতির উন্নতি নয়। সংস্থাটি বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মানবিক সহায়তা তহবিলে বড় ধরনের কাটছাঁট করায় অনেক কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নিখোঁজ বা মৃত ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, সমুদ্রপথগুলো এখনও অভিবাসীদের জন্য যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভূমধ্যসাগরে গত বছর এই পথে অন্তত ২,১০৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আর আটলান্টিক রুটে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার পথে প্রাণ গেছে ১,০৪৭ জনের।

ছবি: সংগৃহীত
অন্যদিকে, এশিয়ায় প্রায় ৩,০০০ অভিবাসীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যাদের অর্ধেকেরও বেশি আফগান নাগরিক। আবার, ইয়েমেন থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাওয়ার পথে ৯২২ জন মারা গেছেন, যাদের অধিকাংশই ইথিওপিয়ার নাগরিক। তিনটি বড় জাহাজডুবিতে এই বিশাল সংখ্যক প্রাণহানি ঘটে।

প্রাণহানির এই ভয়াবহ ধারা ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। আইওএম জানিয়েছে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুধু ভূমধ্যসাগরেই ৬০৬ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য অঞ্চলগুলো অভিবাসন ঠেকাতে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করলেও নিরাপদ ও বৈধ পথের ব্যবস্থা না করায় অভিবাসীরা মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে।

 
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনটি বিশ্বনেতাদের জন্য এক সতর্কবার্তা। মানবিক সহায়তা ও তথ্য সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ অভিবাসন পথ তৈরি না করলে এই মৃত্যুমিছিল থামানো সম্ভব নয়। অভিবাসীদের স্ট্যাটাস যা-ই হোক না কেন, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।