মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে ইরান ও ইসরাইলের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। এই উত্তেজনার আবহে ইরানের ‘বেপরোয়া’ কর্মকাণ্ড রুখতে এবার একাট্টা হয়েছে ইউরোপের তিন শক্তি—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। খবর দ্য হিন্দুসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের।
রোববার (১ মার্চ) দেশগুলোর এক যৌথ বিবৃতির বরাতে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের এবং মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় তারা ইরানের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
বিবৃতিতে লন্ডন, প্যারিস ও বার্লিনের নেতারা বলেন, এই অঞ্চলের দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরান যে নির্বিচার এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, তাতে আমরা স্তম্ভিত। বিশেষ করে যেসব দেশ সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে জড়িত নয়, তাদের ওপরও তেহরান হামলা চালিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক বড়ো ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের উৎস—যেমন স্টোরেজ ডিপো বা লঞ্চার লক্ষ্য করে প্রতিরক্ষামূলক হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। স্টারমার বলেন, নির্দিষ্ট এবং সীমিত প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে মার্কিন অনুরোধ আমরা গ্রহণ করেছি যাতে ইরান এই অঞ্চলজুড়ে আর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে না পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ব্রিটেন কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপে অংশ নেবে না।
জার্মান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় উত্তর ইরাকের আরবিলের একটি বহুজাতিক সামরিক ঘাঁটি এবং জর্ডানের একটি জার্মান সেনা শিবির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এসব হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে জার্মান কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরানের সুর আরও চড়া হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান একে ‘মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিজেদের এবং জনগণকে রক্ষা করার জন্য ইরান কোনো ‘সীমা’ মানবে না।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামাতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে টেলিফোন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর রোববার খবর এসেছে, ইরানের নেতারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করতে চান। ট্রাম্প স্বয়ং দ্য আটলান্টিক নামে একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইরানের এই প্রস্তাবে তিনি রাজি। তবে, কবে, কখন এই আলোচনা হবে তা স্পষ্ট না করে ট্রাম্প বলেন, তাদের অনেক দেরি হয়ে গেছে। উপরন্ত এই প্রস্তাব আসার পরে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাদের পরিকল্পনা মতে ইরানে অভিযান চার সপ্তাহের মতো চলতে পারে।