ইরানের সাবেক বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ নিহত হওয়ার গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন তার এক ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা। তিনি দাবি করেছেন, আহমাদিনেজাদ বর্তমানে জীবিত ও সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন।
রোববার (১ মার্চ) তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই উপদেষ্টা বলেন, আমি তার (আহমাদিনেজাদ) সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। সব ঠিকঠাক আছে।
ওই উপদেষ্টা জানান, শনিবার আহমাদিনেজাদের নিরাপত্তা দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ভবনে হামলা হয়। ওই হামলায় তার তিনজন দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন, যারা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদস্য ছিলেন। তবে যে ভবনে হামলা হয়েছে, সেটি আহমাদিনেজাদের মূল বাসভবন থেকে ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত। সাবেক প্রেসিডেন্টের বাসভবনে কোনো হামলা হয়নি এবং সেটি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
এর আগে ইরানের সংবাদমাধ্যম আইএলএনএ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় মাহমুদ আহমাদিনেজাদ নিহত হয়েছেন। তবে সংবাদমাধ্যমটি এ-ও জানিয়েছিল যে, তার মৃত্যুর বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলের শুরুতে তিনি দেশটির শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্ব, কট্টরপন্থি এবং পার্লামেন্টের রক্ষণশীলদের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিলেন।
তবে মেয়াদের শেষদিকে তাঁর নীতিনির্ধারণ নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে তার গৃহীত পারমাণবিক নীতির কারণে ইরানের ওপর একাধিক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর ফলে দেশটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আহমাদিনেজাদ তার ইসরাইলবিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। তার শাসনামলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বারবার সামরিক হুমকির জেরে ইরান আন্তর্জাতিক মহলে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একসময়ের সমর্থকরাও তার থেকে দূরে সরতে শুরু করেন এবং নিজ শিবিরের কট্টরপন্থিদের কাছেও তিনি এক বিতর্কিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।