১৯৭৯ সালের পর ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

ইরানের বর্তমান থিওক্র্যাটিক বা ধর্মতাত্ত্বিক শাসনব্যবস্থায় মোজতবা খামেনি হলেন দেশটির তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে রাজকীয় শাহ শাসনকে উৎখাত করার পর থেকে এই ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের মহানায়ক আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ছিলেন দেশটির প্রথম সর্বোচ্চ নেতা। ১৯৭৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ১৯৮৯ সালে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই পদে আসীন ছিলেন। তার আমলেই ইরানে বর্তমান শাসনকাঠামোর ভিত্তি স্থাপিত হয়।

১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনির বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর ইরান শাসন করেন। তবে সাম্প্রতিক ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রথম দিনেই এক ভয়াবহ হামলায় আলী খামেনি নিহত হন।

বাবার মৃত্যুর পর চরম এক সংকটময় মুহূর্তে মোজতবা খামেনি ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত হলেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পূর্বসূরিদের আদর্শ ও নীতি বজায় রেখে এই কট্টরপন্থী নেতা ইরানকে বর্তমান যুদ্ধাবস্থা থেকে কীভাবে উত্তরণ ঘটান, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ইরানের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যেখানে দীর্ঘ চার দশক পর নেতৃত্বের ব্যাটন এক প্রজন্মের হাত থেকে অন্য প্রজন্মের হাতে স্থানান্তরিত হলো।