দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে ইরান যুদ্ধ। আর এ সংঘাতে ১২টি দেশ সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে এই যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব। তবে যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে দেখা যাচ্ছে, কোনো পক্ষই তাদের কাঙ্ক্ষিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। উল্টো সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা তত বাড়ছে।
ইরান যুদ্ধে চলছে হামলা পাল্টা হামলা। এরমধ্যেই ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হবে। তবে পরক্ষণেই তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘আরও অনেক দূর’ যাবে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চালানো হামলার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন আশা করেছিল যে ইরান সরকারের পতন ঘটবে অথবা তারা ভেনেজুয়েলার মতো ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে বাধ্য হবে। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি ঘটেনি।
খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করেই প্রতিশোধের শপথ নিয়েছেন এবং ইরানে বড় ধরনের কোনো অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের খবরও পাওয়া যায়নি।
এদিকে তীব্র বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, ইসরাইল এবং ওয়াশিংটনের উপসাগরীয় মিত্রদের প্রধান শহরগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা বজায় রেখেছে। এমনকি তারা বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।
ইরানের কৌশল ছিল আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও সৌদি আরবের বিমানবন্দর, হোটেল এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে তাদের অর্থনীতিতে আঘাত হানা। যাতে তারা ট্রাম্পকে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও সামরিক কাঠামোর কারণে এখানে নিশ্চিত জয় পাওয়া সম্ভব নয়। ইরান এখন ট্রাম্পকে দেখাতে চায় যে এই যুদ্ধ মার্কিন অর্থনীতির জন্য কতটা ভয়াবহ।
ইরানের ধারণা, সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ফুরিয়ে আসবে এবং তখন তারা মিত্রদের ওপর বড় আঘাত হানতে পারবে। তবে এটি অনেকটা আকাশকুসুম কল্পনাও হতে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা এখনও প্রবল।
এদিকে মোজতবা খামেনির পক্ষে ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে আসা প্রায় অসম্ভব। বরং তিনি যে কোনো যুদ্ধবিরতির সুযোগকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করতে পারেন। সব মিলিয়ে অস্ত্র বিরতি হলেও পরিস্থিতি একটি অস্থিতিশীল ভারসাম্যে পৌঁছাতে পারে।