ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ৮২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের (ইসরাইলি মুদ্রায় ২.৬ বিলিয়ন শেকেল) একটি জরুরি বাজেট অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইল।
রোববার (১৫ মার্চ) ইসরাইলি গণমাধ্যম ও বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
জেরুজালেম থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সপ্তাহান্তে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার সদস্যরা এক টেলিফোন বৈঠকের মাধ্যমে এই বিশেষ তহবিল অনুমোদন করেন।
ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, এই অর্থ মূলত ‘নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ক্রয়’ এবং ‘জরুরি প্রয়োজন’ মেটাতে ব্যয় করা হবে।
ইসরাইলের অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি নথিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের তীব্রতা বিবেচনায় অতিরিক্ত এই বরাদ্দের কোনো বিকল্প নেই। নথিতে উল্লেখ করা হয়, অপারেশনাল সক্ষমতা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে গোলাবারুদ সংগ্রহ, উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা ক্রয় এবং যুদ্ধকালীন মজুত পুনরায় পূরণ করা এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।
তবে ইসরাইল সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’র এই খবর নাকচ করে দিয়েছেন।
সম্প্রতি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি স্থান পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ঘাটতির কথা জানানোর খবরটি সত্য নয়।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই ইরান নিয়মিতভাবে ইসরাইলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে।
হারেৎজের দেওয়া তথ্যমতে, ১৩ মার্চ পর্যন্ত ইরান প্রায় ২৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এএফপির হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র বা এর ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ইসরাইলে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরাইল সরকার গত ১২ মার্চ যে ২২২ বিলিয়ন ডলারের রাষ্ট্রীয় বাজেট অনুমোদন করেছে, সেখান থেকেই এই জরুরি সামরিক ব্যয় মেটানো হবে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে এটি নেসেটে (ইসরাইলি পার্লামেন্ট) চূড়ান্তভাবে গৃহীত হওয়ার কথা রয়েছে।