ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শেষ হওয়ার পর ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ইঙ্গিত দেন। খবর এএফপির।
উপস্থাপক শন হ্যানিটিকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন করে পর্যালোচনা করতে হবে। আমাদের দেশের জন্য এই জোটের গুরুত্ব আসলে কতটুকু, সেটি এখন বিবেচনার সময় এসেছে।
এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেবেন বলেও তিনি জানান।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সিনেটে থাকাকালীন তিনি ন্যাটোর শক্তিশালী সমর্থক ছিলেন। কারণ, ইউরোপে সামরিক ঘাঁটি থাকার ফলে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারতো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কিছুটা হতাশ।
রুবিও সতর্ক করে বলেন, ন্যাটোর কারণে যদি আমরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ওই ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে না পারি, তবে এটি একপাক্ষিক জোটে পরিণত হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, আমরা ন্যাটো সদস্যদের ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি বিমান হামলায় অংশ নিতে বলছি না। কিন্তু যখন আমাদের নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের প্রয়োজন হলো এবং তারা ‘না’ বলে দিলো, তখন প্রশ্ন ওঠে আমরা কেন এই জোটে আছি?
ইউরোপের বেশ কিছু দেশ তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করার পরই রুবিও এমন মন্তব্য করলেন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ইতালি মধ্যপ্রাচ্য মিশনে যাওয়ার পথে একটি মার্কিন বিমানকে অবতরণের অনুমতি দেয়নি। এর আগে সোমবার স্পেনও তাদের আকাশসীমা ব্যবহারে মার্কিন বিমানকে বাধা দেয়। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর এমন অবস্থানে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।