পুরোনো অবস্থায় আর ফিরবে না হরমুজ প্রণালী। সাম্প্রতিক যুদ্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভবিষ্যতে ট্রানজিট টোল বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে পশ্চিমা আধিপত্যের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে, ইরানি নৌবাহিনী।
হরমুজ প্রণালীতে ট্রানজিট টোল বাড়াচ্ছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কারণে আর্থিক ক্ষতি এখন থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকেই আদায় করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ঘোষণায় আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী আর কখনোই যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য এই জলপথের নিয়ম স্থায়ীভাবে বদলে যাচ্ছে।
আইআরজিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই আন্তর্জাতিক জলপথে বিদেশি শক্তির খবরদারির দিন শেষ।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি বা আল্টিমেটামে কাজ হবে না। যুদ্ধের ফলে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেই পরিমাণ অর্থ টোল হিসেবে আদায় হওয়ার পরেই কেবল প্রণালীটি সবার জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হতে পারে।
বর্তমানে ইরান বাছাইকৃত কিছু বিদেশি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিলেও ক্ষেত্রবিশেষে প্রায় ১০ লাখ ডলারের বেশি ট্রানজিট ফি আদায় করছে বলে জানা গেছে।
ইরানি নৌবাহিনী বর্তমানে পারস্য উপসাগরে একটি নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠার শেষ ধাপে রয়েছে। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- কোনো বহিরাগত সহায়তা ছাড়াই উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলো এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
পুরো এলাকায় আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা ও বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ইরান তাদের জলসীমা রক্ষা করে জ্বালানি প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর জাহাজের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা যদি এই নতুন ব্যবস্থাকে সামরিকভাবে চ্যালেঞ্জ করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং যে কোনো উসকানিমূলক হস্তক্ষেপের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত।