ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দুই কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ দেশের জন্য জীবন দিতে অঙ্গীকার করেছেন। ইরানে শুরু হওয়া জন-অংশগ্রহণমূলক প্রচারণা ‘ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গ’ (জান ফিদা ফর ইরান)–এ নিবন্ধনের সংখ্যা মঙ্গলবার বিকেলে দুই কোটি ৪০ লাখ ৭২ হাজার অতিক্রম করেছে।
তেহরানভিত্তিক পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বিস্ময়কর সীমা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, এর মাধ্যমে শত্রুরা উপলব্ধি করবে যে, অস্তিত্বগত হুমকির মুখে পড়লে ইরান একটি ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে কথা বলে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা’র রাজনৈতিক প্রতিবেদকের বরাতে জানা গেছে, তথাকথিত তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধের সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জানফাদা.আইআর ওয়েবসাইটে এই প্রতিরক্ষা প্রচারণায় নিবন্ধনের হার ক্রমাগত বাড়ছে।
বিশেষ করে ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির এক বার্তার পর থেকে এই প্রবণতা আরও দ্রুত হয়েছে। শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির শাহাদাতের চল্লিশতম দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ওই বার্তায় জনগণের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বার্তার একাংশে বলা হয়, “শত্রুর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে যেন কেউ মনে না করেন যে, রাস্তায় উপস্থিতি আর প্রয়োজন নেই। বরং যদি সাময়িকভাবে সামরিক সংঘর্ষ থেমেও যায়, তাহলে ময়দান, মহল্লা ও মসজিদে উপস্থিত থাকার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়। আপনাদের কণ্ঠস্বর আলোচনার ফলাফলে প্রভাব ফেলে; যেমন ‘জানফিদা ফর ইরান’ প্রচারণার ক্রমবর্ধমান বিস্ময়কর অংশগ্রহণও এ ক্ষেত্রে একটি প্রভাবশালী উপাদান।”
তিনি আরও বলেন, এই ধারাবাহিক অংশগ্রহণের ফলে ইরান জাতির সামনে একটি গৌরবময়, উজ্জ্বল এবং সম্মান-সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।
এর আগে গতকাল পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ মানুষ এই প্রচারণায় যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে অল্প সময়ের মধ্যেই সেই সংখ্যা দুই কোটিরও বেশি হয়ে যায়।
“জানফিদা ফর ইরান” মূলত প্রায় দুই সপ্তাহ আগে চালু করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে আগ্রহী স্বেচ্ছাসেবকদের নিবন্ধন করা। এই প্রচারণাকে ইরানি গণমাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যা বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় জনগণের প্রস্তুতি এবং একই সঙ্গে একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের আশাও প্রতিফলিত করছে।