ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু রাজ্যের বিধানসভার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এবারের ভোটকে ঘিরে নানা শঙ্কা থাকলেও দুই রাজ্যের বিপুলসংখ্যক মানুষ আজ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় শুরু হওয়া ভোট চলে বিকেল ৬টা পর্যন্ত।
পশ্চিমবঙ্গে দুই দফা ভোটের প্রথম পর্বে আজ ভোট দিলেন ভোটাররা। রাজ্যটিতে দ্বিতীয় দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ এপ্রিল।
অপরদিকে, দক্ষিণী রাজ্য তামিলনাড়ুতে এক দফাতেই অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজ্য আইনসভার সবকটি আসনের ভোট।
পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে এদিন ভোট পড়েছে যথাক্রমে ৯২ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং ৮৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।
এর আগে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ভোট পড়েছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। ফলে আজকের এ ফলাফলকে সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে সর্বোচ্চসংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুতে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে এবার। দুই রাজ্যের ভোটারদের কুর্নিশ জানিয়েছেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হয় ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে। জেলাগুলো হলো—দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া শেষ তথ্য অনুসারে, পশ্চিমবঙ্গে ভোট পড়েছে ৯২ দশমিক ০৭ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান বদলাতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে ইসি সূত্রে জানা গেছে, জেলাভিত্তিক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ১২ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই জেলার ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ রাজ্যের সামগ্রিক হার বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোট হয়েছে প্রায় নির্বিঘ্নে। বড় ধরনের কোনো সহিংসতা বা সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ছোটোখাটো কিছু সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এবার এত বেশি ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে অনেকে বলেছেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষ সোচ্চার হয়ে ভোট দিয়েছেন।
অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই ভোট প্রমাণ করছে, মানুষ সংশোধিত ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন। যেকারণে তারা আরও বেশি করে ভোট দিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যে অত্যাচার করছে, অনাচার করছে, বাংলা চুপ আছে মানে মাথানত করে না, ইলেকশন কাউন্টিংয়ে গড়বড় করবেই। হারতে পারে না তৃণমূল। আজকেই আমরা জিতে বসে আছি। এর পর আমরা দুরমুশ করব। দুরমুশ!
এসময় নির্বাচন কমিশনের অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, কিছু তো একটা হচ্ছে। ধান্দাটা হচ্ছে, কাউন্টিংয়ে সে গুনে অ্যানাউন্স করে দিল। খাতায় লিখে নিল। কিন্তু জিতছেন হয়তো ৪ হাজার ভোটে। দেখাবে ২ হাজার ভোটে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রমাণ হাজির করেননি মমতা।
এদিকে, ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু রাজ্য বিধানসভার ভোটগ্রহণও অনুষ্ঠিত হয়েছে একই সময়ে। ক্ষমতাসীন কংগ্রেস-ডিএমকে জোটের বিরুদ্ধে লড়ছে এডিএমকে-বিজেপি। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা থালাপতি বিজয়ও। ডিএমকেকে হটিয়ে এবার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এডিএমকে-বিজেপি জোট।
পশ্চিমবঙ্গের মতোই এই রাজ্যের বিধানসভার ভোটের ফলাফল পাওয়া যাবে আগামী ৪ মে।