ইরানের ইউরেনিয়াম কেড়ে নেয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেবেন না এবং প্রয়োজনে দেশটির ইউরেনিয়াম মজুত মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানকে চুক্তি বিরোধী শক্তির এক ধরনের সস্তা প্রচার বা প্রোপাগান্ডা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প ইরানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, আমরা নিশ্চিত করতে যাচ্ছি যে তারা যেন কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। অন্যথায় আমাদের খুব কঠোর বা চরম কিছু করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের মানুষের সামনে যখন এই বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে, তখন তারা সবাই একমত হবেন যে আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে দিতে পারি না।

Iran War 06
এক সাংবাদিক যখন প্রশ্ন করেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান কি তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের কাছে রাখতে পারবে? জবাবে ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে বলেন, না, আমরা ওটা কেড়ে নেব। ওটা আমাদের প্রয়োজন নেই, আমরা ওটা চাইও না। পাওয়ার পর আমরা সম্ভবত তা ধ্বংস করে ফেলব, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তা ইরানের কাছে রাখতে দেব না।

এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর রটেছিল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক কঠোর নির্দেশনায় জানিয়েছেন যে দেশটির ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না। তবে এই খবরটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে তেহরান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, খামেনির এই ধরনের কথিত নির্দেশনার খবরটি মূলত শান্তি চুক্তির শত্রুদের দ্বারা ছড়ানো একটি পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা বা অপপ্রচার। তিনি স্পষ্ট করেন, ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে ইরানের অবস্থান শুরু থেকেই অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং সুসংগত।

Iran War 07
ওই ইরানি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইউরেনিয়াম সরাসরি অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেওয়ার চেয়ে এটি নিষ্ক্রিয় করার ভিন্ন একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে রয়েছে। তেহরানের মূল পরিকল্পনা হলো, তারা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নিয়ম মেনে দেশের ভেতরেই এই পারমাণবিক উপাদানের ঘনত্ব কমিয়ে তা লঘু বা মিশ্রিত করে ফেলবে, যাতে তা দিয়ে আর কোনো অস্ত্র তৈরি করা না যায়।

তিনি আরও জানান, ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমিয়ে তা কীভাবে ব্যবহার অনুপযোগী করা হবে, সেটিই মূলত চলমান শান্তি আলোচনার পরবর্তী ধাপের প্রধান বিষয়। ফলে একদিকে ট্রাম্পের সামরিক হুঁশিয়ারি এবং অন্যদিকে ইরানের পরমাণু উপাদান লঘুকরণের এই কূটনৈতিক প্রস্তাব, দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-সিএনএন