মার্কিন হামলা রুখে দেয়ার অসাধারণ গল্প শোনাল আইআরজিসি

সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের কৌশলগত আবু মুসা দ্বীপ লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথভাবে দুই হাজারের বেশি প্রজেক্টাইল এবং প্রায় ৩০০টি ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে, এত বড় হামলার পরও তেহরানের মনোবল ভাঙতে শত্রুরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডারের শীর্ষ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নকদি।

রোববার রাতে আইআরআইবি নিউজ নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল নকদি মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেন। তিনি জানান, ইরানি যোদ্ধাদের পাল্টা মারের কারণে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ক্রুদের মধ্যে এমন চরম মানসিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছিল যে, তারা শেষমেশ নিজেদের নৌ-কমান্ডারকেই বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়।

Abu musa island 03
জেনারেল নকদি দাবি করেন, এই যুদ্ধে শত্রুদের অন্তত ২৮২টি সামরিক অবস্থান ধ্বংস করা হয়েছে এবং শত শত শত্রু সেনা নিহত হয়েছে, যা তারা বিশ্ব মিডিয়া থেকে গোপনে লুকিয়ে রেখেছে। তিনি যুদ্ধের ভেতরের তথ্য দিয়ে বলেন, আমেরিকান আহত সেনাদের চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে একটি ৪০ শয্যার এবং কুয়েত থেকে একটি ১০ শয্যার বিশেষ হাসপাতাল-বিমান জার্মানির মার্কিন সামরিক হাসপাতালগুলোতে চক্কর কাটত।

আইআরজিসির এই শীর্ষ জেনারেল জানান, শত্রুরা যখন ইরানের ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে আঘাত হেনেছিল, তখন ইরানও পাল্টা মার্কিন মালিকানাধীন স্থাপনাগুলোতে সরাসরি হামলা চালায়। তিনি বলেন, দক্ষিণ পার্স গ্যাস ফিল্ডে হামলার পর স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুশোচনা ও দুঃখ প্রকাশ করে চিঠি লিখতে বাধ্য হয়েছিলেন। ট্রাম্প তখন ইরানের সেই বিখ্যাত প্রবাদের স্বাদ পেয়েছিলেন, তুমি একটি মারলে, বদলে ১০টি খাবে’।

Abu musa island 02
জেনারেল নকদির মতে, মার্কিন ডকট্রিন ছিল ‘মিনাব স্কুল গণহত্যা’র মতো নৃশংসতা চালিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করা। কিন্তু ২০০০ ও ২০১০-এর দশকে জন্ম নেওয়া ইরানের নতুন প্রজন্ম শত্রুদের এই নৃশংসতা দেখে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং সামাজিক স্তরে শাসকগোষ্ঠীর ভিত ১৮০ ডিগ্রি শক্ত হয়েছে। ফলে, আমেরিকার ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা ইরান সরকার পতনের দাবি এখন বিশ্বমঞ্চে একটি হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছে।

আমেরিকার পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে ইরানি জনগণের সর্বাত্মক প্রতিরোধকে উল্লেখ করেছেন এই জেনারেল। তিনি মার্কিন একজন জেনারেলের যুদ্ধকালীন রিপোর্টের বরাত দিয়ে বলেন, "ইরানিরা আমেরিকার হাত থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য পথ চেয়ে বসে আছে, এই ভুল ধারণা চিরতরে মুছে গেছে।

Abu musa island 01
মার্কিন ছত্রীসেনারা যখন বিমান থেকে মাটিতে নেমেছিল, তখন সাধারণ মানুষ যার কাছে যা অস্ত্র ছিল, তা নিয়েই আমেরিকানদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মার্কিন জেনারেল নিজেই স্বীকার করেছেন, ‘আমরা চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম এবং যার কাছে ছোট একটি অস্ত্র ছিল, সে-ও আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছিল।

পারস্য উপসাগর এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অভিভাবকত্ব কেড়ে নেওয়ার মার্কিন-ইসরাইলি চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়ার পাশাপাশি মার্চ মাসে আইআরজিসি প্রধানকে হত্যার চক্রান্তও নস্যাৎ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে চলমান যুদ্ধবিরতির মাঝেও ট্রাম্প প্রশাসনকে বিশ্বাস করতে রাজি নন নকদি। তাঁর সোজা কথা, বিপ্লবের ৪৭ বছরে আমেরিকা কখনো একটি সত্য কথা বলেনি এবং কোনো প্রতিশ্রুতি রাখেনি। তাই যে কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে।