ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ৩২

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে রিখটার স্কেলে সাত দশমিক আট মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ৩২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর বিবিসির।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাতটা ৩৭ মিনিটে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। তবে কয়েক ঘণ্টা পর কিছু দেশের সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় বেশ কিছু এলাকায় ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, জোলিবি নামের একটি জনপ্রিয় ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁসহ একাধিক স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এছাড়া কিছু পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রদেশে অন্তত ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দুই ডজন মানুষ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আয়তন ও জনসংখ্যা—উভয় দিক থেকেই মিন্দানাও ফিলিপাইনের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। এখানে প্রায় দুই কোটি ৬০ লাখ মানুষের বসবাস। জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে হতাহতের সংখ্যা তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হবে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উপকূলীয় প্রদেশ সারাঙ্গানিতে সবচেয়ে বেশি ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এদের মধ্যে অনেকেই ভূমিধসের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন। ভূমিকম্পের পরপরই সারাঙ্গানিতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও পরে তা পুনরুদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছের শহর এবং ফিলিপাইনের ‘টুনা মাছের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত জেনারেল সান্তোসে ১০ জন নিহত হয়েছেন। এই শহরেই বিশ্বখ্যাত বক্সিং চ্যাম্পিয়ন ও রাজনীতিবিদ ম্যানি প্যাকিয়াও-এর জন্ম। এখানে এখনও ২২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া সাউথ কোটাবাটো এবং সুলতান কুদারাত প্রদেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার থেকে ফিলিপাইনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ভূমিকম্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ক্লাস স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র।

দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিডিওতে দেখা গেছে, আতঙ্কিত ছাত্রছাত্রীরা কাঁপতে থাকা মাটিতে উবু হয়ে বসে আছে এবং তাদের পেছনের একটি টিনের চালের আশ্রয়কেন্দ্র ধসে পড়ছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি।

এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থা তাদের দুর্যোগ মোকাবিলা কার্যক্রমে সমন্বয় করছে। আমরা মিন্দানাওকে পেছনে ফেলে যাবো না।

ভূমিকম্পের মূল ধাক্কাটির পর ওই অঞ্চলে ১.৩ থেকে ৬.৭ মাত্রার ১৩০টিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পরপরই জাপানের কর্তৃপক্ষ তাদের উপকূলে এক মিটার উঁচু সুনামি ঢেউ পৌঁছানোর বিষয়ে সতর্ক করেছিলো। পরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রদেশে কয়েক সেন্টিমিটার এবং দূরবর্তী ওগাসাওয়ারা দ্বীপপুঞ্জে ২০ সেন্টিমিটার উঁচু ঢেউ পরিমাপ করা হয়েছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া, পালাউ এবং ফিলিপাইনের উপকূল বরাবর বেশ কয়েকটি স্থানে কয়েক সেন্টিমিটার থেকে ১.৪ মিটার (৪.৬ ফুট) উচ্চতার সুনামি ঢেউ শনাক্ত করা হয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ফিলিপাইনে ভূমিকম্প একটি সাধারণ ঘটনা। দেশটি ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও সক্রিয় ‘রিং অব ফায়ার’ -এর ওপর অবস্থিত। এর আগে গত সেপ্টেম্বরেও দেশটির মধ্য ভিসায়াস অঞ্চলে ৬.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলো।