মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত, ওমান উপকূলে উত্তেজনা

ওমান উপকূলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে পালাউয়ের পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনী এই হামলা চালায়, যার একটিতে কর্মরত ওই তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। 

এদিকে বুধবারের এই প্রাণঘাতী হামলার পর ওমান উপকূলে বৃহস্পতিবার ভোরে নতুন করে আরেকটি জাহাজ দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যা চলতি সপ্তাহে এই অঞ্চলে এ ধরনের তৃতীয় ঘটনা। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন উপ-মিশন প্রধানকে তলব করে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত সরকার। আগামী সপ্তাহে গ্রুপ অব সেভেন (জি-৭) সম্মেলনের সাইডলাইনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ঠিক আগে এই ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড়ো ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে।  

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন অবরোধ অমান্য করায় তারা ‘সেত্তেবেলো’ এবং ‘মারিভেক্স’ নামের দুটি তেলের ট্যাংকারকে অচল করে দিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, সেত্তেবেলো জাহাজটি ইরান থেকে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল এবং মারিভেক্স একটি ইরানি বন্দরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। দুটি জাহাজেই ভারতীয় নাবিকেরা কর্মরত ছিলেন।  

ভারতের জাহাজ চলাচল মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, সেত্তেবেলো জাহাজে মার্কিন হামলার পর প্রাথমিকভাবে নিখোঁজ হওয়া তিন ভারতীয় নাবিকেরই মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহগুলো উদ্ধার ও শনাক্তকরণের পর তাদের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে ভারত সরকার।  

এদিকে তিন নাবিক নিহতের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে আরেকটি জাহাজ সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে। ‘ফরওয়ার্ড সীমেন’স ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’র তথ্যমতে, সর্বশেষ এই ঘটনায় জড়িত জাহাজটির নাম ‘এমটি জলবীর’।  এই নতুন জাহাজটিতে কোনো ভারতীয় নাবিক ছিলেন কিনা, তা ভারতীয় দূতাবাস নির্দিষ্ট করে জানায়নি। তবে দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছি।  

বুধবারের মার্কিন হামলার পর ভারত সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, ভারত সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন উপ-মিশন প্রধানকে তলব করে এর বিরুদ্ধে নিজেদের কঠোর প্রতিবাদ নথিবদ্ধ করেছে।  রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই ঘটনা মার্কিন-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কে জলঘোলা করতে পারে, কারণ আগামী সপ্তাহে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কৌশলগত অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুর এই ঘটনাটি ওই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।