হরমুজে উত্তেজনা, আপাতত পিছু হটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর কাছে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘আপাতত পিছু হটবে’ বলে জানিয়েছেন দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা ‘সঠিক পথেই এগোচ্ছে’ বলেও দাবি করেছেন তারা। তবে এ বিষয়ে তেহরানের বর্তমান অবস্থান এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। খবর সিএনএনের।

সোমবার (২৯ মার্চ) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক এই সামরিক সংঘাত দুই দেশের মধ্যকার একটি প্রাথমিক চুক্তিকে চরম পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন উভয় পক্ষের মধ্যে শত্রুতা বন্ধ থাকার কথা ছিলো।

প্রতিবেদন বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় নগণ্য পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ জাহাজ চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। এর ফলে নৌপরিবহন পরিচালনাকারীরা কোন পথ বেছে নেবেন, তা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হচ্ছেন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বরাবরের মতোই তেহরানের ‘একচেটিয়া ব্যবস্থাপনার’ অধীনেই থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি একটি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও সপ্তাহান্তে লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে লড়াই অব্যাহত ছিলো। ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর অংশ হিসেবে ইরান একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার দাবি করেছে তেহরান।

রয়টার্স একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে ভঙ্গুর চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কার পর একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি দলগুলো আগামী দিনগুলোতে দোহায় বৈঠকে বসবে। তবে, একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে কারিগরি বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

আলোচনা সম্পর্কে সূত্রটি আরও জানায়, যেকোনো ঘটনা প্রশমিত করতে মধ্যস্থতাকারীরা যোগাযোগের মাধ্যম স্থাপন করেছেন এবং কারিগরি আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

তবে দুই সরকারের মধ্যে একটি বৃহত্তর চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো কারিগরি আলোচনা নির্ধারিত নেই বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দেশটির কারিগরি প্রতিনিধিদলের প্রধান কাজেম গরিবাবাদি ওমানের মাস্কাটে সাংবাদিকদের বলেন, এই সপ্তাহের জন্য কোনো কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। দোহায় কারিগরি বৈঠক হতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে দাবি করা হয়েছে, তা নিশ্চিত নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। গরিবাবাদি জানান, প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ হলে এবং তারিখ ও স্থান নিয়ে সমঝোতার পর প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

এই মাসের শুরুতে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে আলোচনা চলাকালীন চার দফাবিশিষ্ট কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হয়েছিল দুই দেশ। এই গ্রুপগুলোর মূল কাজ—নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ও ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়ন্ত্রণ, পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামগ্রিক চুক্তির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা।