বাভি’র আশঙ্কায় তাইওয়ানে হাজারো মানুষকে স্থানান্তর

তাইওয়ানে গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় টাইফুন বাভি’র আঘাতের আশঙ্কায় সহস্রাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বহু স্কুল ও সরকারি-বেসরকারি অফিসও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তাইওয়ানের কিলুং থেকে বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, শুক্র ও শনিবার টাইফুন বাভি তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল, পাশাপাশি জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমের দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে আঘাত হানবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এরপর এটি চীনে আছড়ে পড়তে পারে। চলতি সপ্তাহে প্রাণঘাতী ঝড়ে চীন ইতোমধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বন্দর নগরী কিলুং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেখানে বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী মজুত করেছেন। জানালায় টেপ লাগিয়েছেন এবং সড়কের সমতলে থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশমুখে বালুর বস্তা সাজিয়ে রেখেছেন। কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা মেনে তারা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছেন।

সোমবার সুপার টাইফুন হিসেবে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানার পর প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করার সময় বাভির শক্তি কিছুটা কমে টাইফুনে পরিণত হয়।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, শুক্রবার বাভির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার দমকা হাওয়ার গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৯৮ কিলোমিটার। বৃহস্পতিবারের তুলনায় এর গতি কিছুটা কমেছে।

সিডব্লিউএর আবহাওয়াবিদ ওয়াং পিং-শিয়াং বলেন, পরিবেশগত পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় টাইফুনটি আরও দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, তাইপে, নিউ তাইপে, কিলুং ও ইলান সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারে। আর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে মধ্য ও উত্তর তাইওয়ানের পার্বত্য এলাকায়।

বাভির প্রবল বাতাসের বিস্তৃতি ৩৮০ কিলোমিটার। ফলে এটি ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় টাইফুন হতে যাচ্ছে।

শুক্রবার উত্তর ও পূর্ব তাইওয়ানের অনেক এলাকায়, রাজধানী তাইপেসহ, স্কুল ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে।

কিলুংয়ে বাসিন্দারা তাজা ফল ও সবজি কিনতে বাজারে ভিড় করেন। ভ্রাম্যমাণ খাবার বিক্রেতারা তাদের স্টল সুরক্ষিত করেন। একটি মন্দির কর্তৃপক্ষও ঝড়ের আগে বাইরে থাকা একটি মূর্তি ঢেকে বেঁধে রাখে।

বাভি’র প্রভাবে কোথাও কোথাও এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য হুয়ালিয়েন কাউন্টিতে দুইটি প্রাকৃতিক বাঁধ পর্যবেক্ষণে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে বেশি ঝুঁকি থাকায় সহস্রাধিক মানুষকে বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বাভিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন এলাকার মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি ফেসবুকে বলেন, টাইফুনটি কিছুটা দুর্বল হয়ে এখন মাঝারি মাত্রার টাইফুনে পরিণত হলেও এর বিস্তৃত বায়ুপ্রবাহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনও প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টি বয়ে আনতে পারে।

তাইওয়ান অতিক্রম করার পর সপ্তাহের শেষে পূর্ব চীনে বাভির আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি সপ্তাহে বৈরী আবহাওয়া এরই মধ্যে চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। ঝড়ে অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনেক নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে ও একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে গেছে।