জর্ডানে ইরানের সামরিক অভিযানে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর এবার মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে, ২০২৬ সালের ৭ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন মাত্রায় প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। তবে সংস্থাটির দাবি, আহতদের অধিকাংশই ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে আবারও দায়িত্বে ফিরেছেন।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানান, ২০২৬ সালের ৭ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হামলায় প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
যদিও তিনি দাবি করেছেন, আহত সেনাদের ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে গেছেন এবং নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।
পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, আহতদের বেশিরভাগই হালকা মাত্রার ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি বা মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহত, অস্ত্রের ক্ষয়ক্ষতি এবং সামরিক অবকাঠামোর ক্ষতির তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক অবস্থান অনুসরণ করে আসছে। এর উদ্দেশ্য হিসেবে অভ্যন্তরীণ জনমত নিয়ন্ত্রণ, কংগ্রেসের রাজনৈতিক চাপ এড়ানো এবং এসব ঘটনার মানসিক ও প্রতিরোধমূলক প্রভাব সীমিত রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কিংবা রকেট হামলার পর হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সাধারণত ধাপে ধাপে, দীর্ঘ বিলম্বে অথবা "হালকা ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি"র মতো পরিভাষা ব্যবহার করে প্রকাশ করা হয়। ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জনসমক্ষে আসে না বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সেনাদের প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রকাশ করা হলে ওয়াশিংটনের জন্য উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও সংবাদ সেন্সরশিপের অভিযোগ করে আসছেন।