ইরান যুদ্ধে বেড়েই চলেছে মার্কিন ক্ষয়ক্ষতি, আহত সেনার সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে

ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালাতে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এক কর্মকর্তার দাবি, চলমান সংঘাতে আহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা এরইমধ্যে ৫০০ ছাড়িয়েছে। তবে পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক তথ্যভাণ্ডারে হতাহতের সংখ্যা এখনও কম দেখানো হচ্ছে। তথ্য হালনাগাদে বিলম্বের কারণেই এই পার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে দাবি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে তেল আবিব ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমের সর্বশেষ তথ্যে আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ৪৮২।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা এপিকে জানিয়েছেন, বাস্তবে আহতের সংখ্যা ৫০০-এর গণ্ডি পেরিয়েছে।

ওই কর্মকর্তার দাবি, এই পার্থক্যের অর্থ তথ্য গোপন করা নয়। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে হতাহত সেনাদের তথ্য সংগ্রহ, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি যাচাই এবং কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে যুক্ত করতে কিছুটা সময় লাগে। ফলে আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান হালনাগাদ হতে বিলম্ব হয়।

এপির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

এদিকে সংঘাত পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসাবে, সামরিক অভিযান, অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ ব্যবহার এবং অন্যান্য লজিস্টিক কার্যক্রম মিলিয়ে এ পর্যন্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পেন্টাগনের হতাহতের তথ্য নিয়মিত ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমে হালনাগাদ করা হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেক তথ্য আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে যুক্ত হয় না। ফলে প্রকাশিত সংখ্যা ও প্রকৃত হতাহতের মধ্যে সাময়িক ব্যবধান তৈরি হতে পারে।

মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়ানোর তথ্য প্রকাশের পর যুদ্ধের মানবিক মূল্য, সামরিক কৌশল এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সেনাদের প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রকাশ করা হলে ওয়াশিংটনের জন্য উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও সংবাদ সেন্সরশিপের অভিযোগ করে আসছেন।