অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক, তবে মোদীর আশ্বাসেও থামেনি আন্দোলন

শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে টানা ২৬ দিনের অনশন ভেঙেছেন ভারতের সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। বিজেপি সরকারের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

এদিকে প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর নতুন আইনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

দিল্লির চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে শুরু করা ২৬ দিনের অনশনের ইতি টানেন সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুরুগ্রামের একটি হাসপাতালে তিনি অনশন ভাঙেন।

অনশন ভাঙার সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা, জিতেন্দ্র সিংসহ ওয়াংচুকের পরিবারের সদস্যরা। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ওয়াংচুক জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর এবং দেশে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতেই তিনি অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

দলের নেতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, ওয়াংচুকের আত্মত্যাগ গোটা দেশের বিবেককে জাগিয়ে তুলেছে। তবে আন্দোলনের লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি।

অন্যদিকে আন্দোলনের মধ্যেই নতুন কয়েকটি পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে দিল্লি হাইকোর্ট একটি বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক রদবদল করে নতুন শিক্ষা সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নরেশ পাল গাঙ্গোয়ারকে।

সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভিডিও বার্তায় মোদী বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মোদী বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর গত আড়াই মাসে সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল, যেন কোনো শিক্ষার্থীর একটি বছরও নষ্ট না হয়। সে কারণেই দ্রুত পরীক্ষা আয়োজন করা জরুরি ছিল। সরকারের সর্বোচ্চ চেষ্টায় প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে।

আন্দোলনের অচলাবস্থা নিরসনে শুক্রবার সরকার ও ককরোচ জনতা পার্টির মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সিজেপির একটি প্রতিনিধিদল সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসবে।

তবে রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ এখনো থামেনি। যন্তর মন্তরের আশপাশের দেড় কিলোমিটার এলাকায় মধ্যরাত পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে জারি রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। নিরাপত্তাজনিত কারণে সন্ধ্যার পর বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ দোকান ও রেস্তোরাঁ।