বদলি নয়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই শেষ কথা: রাহুল গান্ধী

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে তার পদ থেকে অপসারণসহ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো আবারও জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা যেসব সম্ভাব্য সমাধান বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে—তার ভিত্তিতে রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ না করিয়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দেওয়া আন্দোলনরত ছাত্রদের কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। তার পদত্যাগই শেষ কথা।

শনিবার (২৫ জুলাই) নয়াদিল্লিতে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) তিনজন ছাত্র প্রতিনিধির সঙ্গে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফা আলোচনার জন্য সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংগঠনের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, শিক্ষামন্তী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে তারা অপরিবর্তনীয়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বৈঠকের স্থান এখনও প্রকাশ করা হয়নি। 

অন্যদিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ জানিয়েছেন যে তিনি টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছেন। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে মধ্য দিল্লির অন্তত ১৮টি মেট্রো স্টেশন টানা চতুর্থ দিনের মতো বন্ধ রয়েছে।

গত ২০ জুলাই নয়াদিল্লিতে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের দায়ের করা মামলার সংখ্যা আরও বেড়েছে। সিজেপির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—২০ জুলাই নির্মমভাবে প্রহৃত প্রতিবাদী ছাত্রদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং আন্দোলনকারীদের কারও বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার লিখিত আশ্বাস দেওয়া।

এদিকে পরীক্ষায় অনিয়ম প্রতিরোধে কেন্দ্র বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে; যার মধ্যে রয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আইন কঠোর করা এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) ৪৭ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা। বদলি করা হয়েছে দুই সচিবকেও।

এর আগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে সিজেপি প্রতিনিধিরা চলতি বছরের নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মানসিক কষ্টে আত্মহত্যা করা পরিবারগুলোর জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানায়।

এদিকে ২০ জুলাইয়ের পদযাত্রায় পুলিশি নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আগামী রবিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় দেশব্যাপী মোমবাতি মিছিলের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ছাত্র সংগঠনসহ অপরাপর সংগঠনগুলোকে অনুমতি সংগ্রহ ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার আহবান জানানো হয়েছে।