ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনার পর অবশেষে তাদের বহুল আলোচিত আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার (২৫ জুলাই) দুই পক্ষের মধ্যে তৃতীয় দফা আলোচনা শেষে আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
নয়াদিল্লির কন্সটিটিউশন ক্লাব অফ ইন্ডিয়াতে কেন্দ্রীয় সরকার ও সিজেপি প্রতিনিধিদলের এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকার তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করতে সম্মত হওয়ায় তারা ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ আন্দোলন সমাপ্ত করছেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের রাজপথ ছেড়ে নিজ নিজ স্থানে ফিরে যাওয়ার আবেদন জানান তিনি।
যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জে পি নাড্ডা জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশ যেসব মামলা দায়ের করেছিলো, তা প্রত্যাহারে সরকার প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, তাদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক বার্তায় সিজেপি জানিয়েছে, তাদের প্রস্তাবিত ‘৫-দফা পরীক্ষা সংস্কার সনদ’ সরকার বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে। এই সংস্কার ত্বরান্বিত করতে পরবর্তীতে সরকারের সঙ্গে আরও বৈঠক করবে সংগঠনটি।
এর আগে, বিগত ১০ দিনের ঘটনাবলীতে ‘ব্যথিত’ হয়ে জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মন্ত্রী পদত্যাগ করার পরপরই সিজেপি তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখে: ‘তেলাপোকারা জিতেছে, গণতন্ত্র জিতেছে।’
এদিকে পদত্যাগের পর সিজেপি তাদের হালনাগাদ দাবিনামা প্রকাশ করেছে। যেখানে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিটি অর্জিত হয়েছে উল্লেখ করে জানানো হয়, আত্মহননকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব ব্যবস্থা প্রত্যাহার এবং আরএএফ ও দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার মতো বাকি দাবিগুলোর বাস্তবায়নে তারা রাজপথে নজর রাখবে।
